ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করা একজন রেফারির ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই বিরল সম্মান অর্জন করেছেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মহারণে বাঁশি বাজিয়ে তিনি শুধু নিজের ক্যারিয়ারেই নতুন অধ্যায় যোগ করছেন না, একই সঙ্গে ইতিহাসের প্রথম স্লোভেনিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার গৌরবও অর্জন করছেন।
১৯৭৯ সালের ২৫ নভেম্বর স্লোভেনিয়ার মারিবোরে জন্ম নেওয়া ভিনচিচ ২০১০ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় রয়েছেন। ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ম্যাচ পরিচালনায় শান্ত স্বভাব, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং খেলোয়াড়দের ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভিনচিচ ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। ২০২২ সালের উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনাল এবং ২০২৪ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তার পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়। এসব অভিজ্ঞতাই তাকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ মঞ্চের জন্য অন্যতম যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশ্বকাপে ভিনচিচের অন্যতম শক্তি ছিল ভিএআর ব্যবহারে বিচক্ষণতা। বিতর্কিত মুহূর্তে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তিনি নির্ভুল সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম হন। একই সঙ্গে অযথা বাঁশি না বাজিয়ে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখার প্রবণতাও তাকে অন্য রেফারিদের থেকে আলাদা করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ভিনচিচ গ্রুপপর্বের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার নিরপেক্ষতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে ফিফা তাকে ফাইনালের দায়িত্ব দেয়। এই নিয়োগ তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২০২০ সালে বসনিয়ায় একটি পুলিশ অভিযানের সময় ভুলবশত একটি বিতর্কিত ঘটনায় তার নাম সামনে আসে। পরে তদন্তে প্রমাণ হয়, তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি পান। সেই ঘটনার পরও তিনি পেশাদারিত্ব ধরে রেখে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। এবার বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সেই প্রত্যাবর্তনেরই প্রতীক।
বিশ্বকাপ ফাইনালে কোটি কোটি দর্শকের নজর থাকবে শুধু স্পেন ও আর্জেন্টিনার তারকাদের ওপর নয়, থাকবে স্লাভকো ভিনচিচের প্রতিটি সিদ্ধান্তের দিকেও। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তার প্রতিটি বাঁশি, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি মুহূর্ত নির্ধারণ করতে পারে ম্যাচের গতিপথ। আর সেই কারণেই এই ফাইনাল শুধু দুই দলের লড়াই নয়, একজন রেফারির জন্যও ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন