অ্যানড্রয়েড অ্যাপ তৈরির চেনা জগৎকে পুরোপুরি বদলে দিতে চলেছে গুগল। সাধারণত একটি মানসম্মত অ্যাপ তৈরি করতে যেখানে কয়েক সপ্তাহের কোডিং এবং জটিল সেটআপের প্রয়োজন হতো, এখন সেটি করা যাবে মাত্র কয়েক মিনিটে। বার্ষিক ডেভেলপার কনফারেন্স ‘গুগল আই/ও ২০২৬’-এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েব-ভিত্তিক ‘গুগল এআই স্টুডিও’ -তে সরাসরি অ্যানড্রয়েড অ্যাপ তৈরির এই অবিশ্বাস্য এআই ফিচারের ঘোষণা দিয়েছে।
গুগলের এই পদক্ষেপের ফলে কার্সর, রেপ্লিট বা ক্লদ কোডের মতো বিশ্বসেরা এআই কোডিং টুলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়বে, তেমনি কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত বা কোডিং জ্ঞান ছাড়াই সাধারণ মানুষও এখন নিজের ইচ্ছামতো অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন।
কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?
গুগল এআই স্টুডিওর এই নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা সাধারণ কথ্য ভাষার কমান্ড দিয়ে বা গুগলের ভাষায় ‘ভাইব-কোডিং’-এর মাধ্যমে অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন।
প্রোগ্রামিং ভাষা : অ্যাপগুলো মূলত ‘কোটলিন’ প্রোগ্রামিং ভাষা এবং গুগলের ‘জেটপ্যাক কম্পোজ’ টুলকিট ব্যবহার করে তৈরি হবে।
হার্ডওয়্যার সাপোর্ট : তৈরি করা অ্যাপগুলোতে ফোনের জিপিএস, ব্লুটুথ এবং এনএফসির মতো হার্ডওয়্যার সেন্সরগুলোর সরাসরি সংযোগ ও ব্যবহার করা যাবে।
ব্রাউজারেই প্রিভিউ : অ্যাপটি কেমন হচ্ছে, তা ব্যবহারকারীরা ব্রাউজারের ভেতরে থাকা ‘অ্যানড্রয়েড এমুলেটর’-এর মাধ্যমে সরাসরি দেখতে ও পরীক্ষা করতে পারবেন। এরপর একটি ইউএসবি ক্যাবলের সাহায্যে কম্পিউটার থেকে অ্যাপটি সরাসরি নিজের অ্যানড্রয়েড ফোনে ইনস্টল করা যাবে।
ব্যক্তিগত ব্যবহার থেকে প্লে-স্টোর
প্রাথমিকভাবে এই সুবিধাটি ব্যবহার করে মানুষ তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ইউটিলিটি অ্যাপ, ছোটখাটো সামাজিক অ্যাপ কিংবা এআই-চালিত বিভিন্ন পকেট টুল তৈরি করতে পারবেন। তবে কোনো ডেভেলপার যদি এই প্রজেক্টটিকে আরও বড় করতে চান, তবে এআই স্টুডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপের রেকর্ড তৈরি করে তা গুগল প্লে কনসোলের ইন্টারনাল টেস্টিং ট্র্যাকে আপলোড করে দেবে।
এ ছাড়া চাইলে পুরো প্রজেক্টটি জিপ ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করে ‘অ্যানড্রয়েড স্টুডিও’ বা গিটহাবেও নেওয়া যাবে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা : গুগল জানিয়েছে, খুব শিগগিরই ব্যবহারকারীরা তাদের তৈরি অ্যাপগুলো পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার সুবিধা পাবেন। গুগল এমন একটি ইকোসিস্টেমের কথা ভাবছে, যেখানে মানুষ শুধু প্লে-স্টোর নয়, বরং বন্ধুদের তৈরি করা অ্যাপও নিজেদের মধ্যে ব্যবহার করবে।
প্লে-স্টোরে যুক্ত হচ্ছে ‘আস্ক প্লে’
অ্যাপ তৈরির পাশাপাশি অ্যাপ খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতিতেও এআই যুক্ত করছে গুগল। প্লে-স্টোরে আসতে যাচ্ছে ‘আস্ক প্লে’ নামের একটি এআই ওভারলে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এআইর সঙ্গে সরাসরি চ্যাট বা কথা বলে তাদের প্রয়োজনীয় অ্যাপ খুঁজে নিতে পারবেন।
পাশাপাশি, আগামী সপ্তাহগুলোতে গুগলের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনি’ চ্যাটের মধ্যেও ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ডেভেলপারদের তৈরি অ্যাপ সাজেস্ট করবে। চলতি বছরের শেষের দিকে জেমিনি প্রায় সাড়ে ৪ লাখ সিনেমা, টিভি শো এবং লাইভ স্পোর্টসের তথ্যও দেখাতে শুরু করবে, যা ব্যবহারকারীকে সরাসরি নির্দিষ্ট অ্যাপের সেই কনটেন্টে নিয়ে যাবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন