ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অডিও-এআই অ্যাপ ‘হাক্স’

ইনফোটেক ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০১:৩০ এএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জনপ্রিয় অডিও-জেনারেশন অ্যাপ ‘হাক্স’। গুগল-এর নোটবুকএলএমের প্রাক্তন ডেভেলপারদের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই স্টার্টআপটি ব্যবহারকারীদের যেকোনো প্রম্পটের ভিত্তিতে আস্ত একটি পডকাস্ট বা পডকাস্ট সিরিজ তৈরি করার সুবিধা দিত। কাকতালীয়ভাবে, স্পটিফাই তাদের প্ল্যাটফর্মে একই ধরনের ‘পার্সোনাল পডকাস্ট’ ফিচার চালু করার ঠিক একদিন পরই হাক্স বন্ধের এই ঘোষণা এলো।

ঝটপট বিদায় ও ডেটা মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইতোমধ্যেই অ্যাপল অ্যাপ স্টোর এবং গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেসব ব্যবহারকারীর ফোনে অ্যাপটি আগে থেকেই ইনস্টল করা আছে, তারা আর মাত্র ৭ দিন এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এরপর হাক্স ব্যবহারকারীদের সমস্ত ডেটা সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলবে। তবে আকস্মিক এই বন্ধের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহকদের পাঠানো এক ই-মেইলে তারা কেবল জানিয়েছে, ‘আমরা হাক্স বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের টিম এখন নতুন কিছু নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছে।’

বড় কোম্পানির ফিচারে পরিণত হওয়ার খেসারত

ভোক্তা-কেন্দ্রিক এআই বাজার এখন চরম প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ছোট ছোট স্টার্টআপগুলো যেসব অভিনব আইডিয়া নিয়ে বাজারে আসছে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দ্রুত সেগুলোকে নিজেদের অ্যাপের সাধারণ ‘ফিচার’ হিসেবে যুক্ত করে নিচ্ছে। হাক্সের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছে।

গুগলের নোটবুকএলএম পডকাস্ট তৈরির এই ধারণাটি জনপ্রিয় করার পর একে একে অ্যাডোবি, অ্যামাজন, ইলেভেনল্যাবস, মেটা এবং সর্বশেষ স্পটিফাই এই ফিচারটি নিজেদের মতো করে চালু করেছে। এমনকি গুগলও ব্যবহারকারীদের ডিসকভার ফিডের ওপর ভিত্তি করে পডকাস্ট তৈরির আলাদা ফিচার এনেছে। ফলে, পডকাস্ট তৈরির এই বিশেষ প্রযুক্তিটি বাজারে অত্যন্ত সাধারণ বা ‘কমোডিটাইজড’ হয়ে পড়েছে।

অর্থায়ন এবং পেছনের কারিগর

২০২৪ সালের শেষের দিকে গুগলের প্রাক্তন কর্মী রাইজা মার্টিন, জেসন স্পিলম্যান এবং স্টিফেন হিউজ মিলে হাক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্টার্টআপটি কনভিকশন, জিনিয়াস ভেঞ্চারস, ফিগমার সিইও ডিলান ফিল্ড এবং গুগল রিসার্চের প্রধান বিজ্ঞানী জেফ ডিনের মতো বড় বড় নাম ও প্রতিষ্ঠান থেকে ৪.৬ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল।

স্টার্টআপদের জন্য নতুন বার্তা

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই মডেলগুলো দিন দিন শক্তিশালী হওয়ার কারণে এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে রূপান্তর (যেমন টেক্সট থেকে অডিও, বা অডিও থেকে ভিডিও) অনেক সহজ হয়ে গেছে। যে কোম্পানিগুলো কেবল একটি নির্দিষ্ট কনভার্সন মোডালিটির ওপর ভিত্তি করে অ্যাপ বানাচ্ছে, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় করা এবং টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বড় কোম্পানিগুলোর দ্রুত ফিচার কপি করার এই প্রবণতা ছোট স্টার্টআপগুলোর জন্য বড় ধাক্কা।  ওবো বা সান -এর মতো আরও কিছু অডিও-লার্নিং স্টার্টআপ এখনো বাজারে টিকে থাকার লড়াই চালালেও, হাক্সের এই আকস্মিক বিদায় এআই স্টার্টআপ জগতের তীব্র ও নিষ্ঠুর প্রতিযোগিতার বাস্তব চিত্রটিই আবার সামনে নিয়ে এলো।