ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গুগলের নতুন এআই চশমা

কল্পবিজ্ঞান এখন বাস্তবতার মুখোমুখি

ইনফোটেক ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ০১:০৭ এএম

এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার কনফারেন্স ‘গুগল আই/ও  ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীরা গুগলের বহুল প্রতীক্ষিত এআই-চালিত স্মার্ট চশমা বা ‘ইন্টেলিজেন্ট আইওয়্যার’ কাছ থেকে দেখার ও পরখ করার সুযোগ পেয়েছেন।

চশমাটি মূলত দুটি সংস্করণে আসছেÑ একটি কেবল অডিও সংস্করণ যা এই বছরের শেষ নাগাদ বাজারে আসবে, এবং অন্যটি অডিও ও ভিজ্যুয়াল (ডিসপ্লে) প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি করা একটি বিশেষ সংস্করণ। স্যামসাংয়ের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল এবং বিখ্যাত চশমা নির্মাতা ব্র্যান্ড ‘ওয়ারবি পার্কার’ ও ‘জেন্টল মনস্টার’-এর ডিজাইনে তৈরি এই চশমাগুলো গুগলের ‘অ্যান্ড্রয়েড এক্সআর’ প্ল্যাটফর্মে চালিত হবে।

চোখের সামনেই ভেসে উঠবে ভার্চুয়াল জগৎ পরীক্ষামূলক সংস্করণ বা প্রোটোটাইপটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, চশমাটির লেন্সের ভেতরে একটি সূক্ষ্ম ডিসপ্লে রয়েছে। এটি ব্যবহারকারীর চোখের সামনে বাস্তবের ওপর আবহাওয়ার পূর্বাভাস, গুগল ম্যাপসের দিকনির্দেশনা, উবারের তথ্য কিংবা লাইভ অনুবাদের মতো বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উইজেট ফুটিয়ে তোলে। ব্যবহারকারীরা চাইলে এআইর সাহায্য নিয়ে নিজস্ব উইজেটও তৈরি করে নিতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএসÑ উভয় ধরনের ফোনের সঙ্গেই এটি যুক্ত করা যাবে।

জেমিনি ও ‘ন্যানো ব্যানানা’র যুগলবন্দি

চশমাটির ডানদিকের ফ্রেমে দুই সেকেন্ড চেপে রাখলেই একটি মৃদু সুরের সঙ্গে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনি’ সক্রিয় হয়ে ওঠে। মুখের কথায় এটি গান বাজানো বা কল করার মতো কাজ করতে পারে। এতে রয়েছে ইন-বিল্ট ক্যামেরা, যা দিয়ে স্রেফ ইশারা বা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে ছবি তোলা যায়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো-এর তাৎক্ষণিক ছবি এডিটিং ক্ষমতা। যেমনÑ কাউকে চশমা পরা অবস্থায় দেখে যদি বলা হয়, ‘একটি ছবি তোলো এবং এই মানুষটিকে অ্যানিমে চরিত্রে রূপান্তর করো,’ তবে চশমাটি ছবি তুলে তা ফোনের মাধ্যমে গুগলের শক্তিশালী ইমেজ মডেল ‘ন্যানো ব্যানানা’ সার্ভারে পাঠিয়ে দেবে এবং নিমেষেই এডিটেড ছবি ফেরত নিয়ে আসবে।

বাস্তব জীবনের দারুণ কিছু ফিচার

রিয়েল-টাইম অনুবাদ : চশমাটির সবচেয়ে চমৎকার পারফরম্যান্স দেখা গেছে ভাষা অনুবাদের ক্ষেত্রে। সামনে থাকা কোনো ব্যক্তি দ্রুত স্প্যানিশ ভাষায় কথা বললে চশমাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা শনাক্ত করে চোখের সামনের ডিসপ্লেতে ইংরেজি টেক্সট দেখায় এবং জেমিনি কানে ইংরেজিতে তা শুনিয়ে দেয়।

গুগল ম্যাপস নেভিগেশন : রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় চোখের সামনেই পরবর্তী টার্ন বা মোড়ের দিকনির্দেশনা দেখা যাবে। দিক হারিয়ে ফেললে নিচের দিকে তাকালেই মাটির ওপর একটি নীল রঙের ভার্চুয়াল ম্যাপের বিন্দু দেখা যাবে, যা দেখে সহজেই সঠিক দিক চিনে নেওয়া সম্ভব। সোজা তাকালে ম্যাপটি আবার চোখের সামনে থেকে সরে যাবে যাতে হাঁটতে কোনো সমস্যা না হয়।

অবজেক্ট বা বস্তু চেনা : সামনে থাকা গাছপালা, বইয়ের রেসিপি বা যেকোনো জিনিস চিনে নিয়ে সে বিষয়ে জেমিনির কাছে প্রশ্ন করা যাবে। এমনকি রান্না করার সময় চুলার দিকে তাকালে এটি মাংস সঠিকভাবে সিদ্ধ হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও ফিডব্যাক দিতে সক্ষম।

কিছু সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্য

যেহেতু চশমাটি এখনো প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, তাই কিছু ত্রুটিও চোখে পড়েছে। কোলাহলপূর্ণ পরিবেশের ফ্রেম স্পিকারের আওয়াজ কিছুটা কম শোনায় এবং এর মিউজিক কোয়ালিটি ভালো মানের ইয়ারবাডসের বিকল্প হতে পারেনি। এ ছাড়া ডান চোখের ওপর একক ডিসপ্লে থাকার কারণে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে কিছুটা চোখের ক্লান্তি বা স্ট্রেন অনুভূত হতে পারে। বাজারের অন্যতম প্রতিযোগী মেটা এবং স্ন্যাপের স্মার্ট চশমাকে টেক্কা দিতে গুগল আপাতত এই শরতে স্ক্রিন ছাড়া শুধু অডিও ও ক্যামেরা সমৃদ্ধ ফ্যাশনেবল সংস্করণটি বাজারে ছাড়ছে। ডিসপ্লে সমৃদ্ধ মূল এক্সআর সংস্করণটির জন্য ব্যবহারকারীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। গুগলের মতে, এই চশমাগুলো আপনার ফোনের বিকল্প নয়, বরং ফোনকে পকেটেই রেখে পুরো পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত থাকার এক নতুন চাবিকাঠি।