ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপ আর ফিফা গেমের জাদুকরী সফর

ইনফোটেক ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৫:৫৮ এএম

মাঠে চলছে আসল বিশ্বকাপের মহাযুদ্ধ, আর ড্রয়িংরুমে কিংবা মনিটরের সামনে চলছে ভার্চুয়াল ট্রফি জয়ের লড়াই! ফুটবল বিশ্বকাপের এই চেনা আমেজের সঙ্গে যে নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, তা হলো ভিডিও গেমের কিংবদন্তি ফ্র্যাঞ্চাইজ ‘ফিফা’।  ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত, এই গেমটি কেবল একটি সফটওয়্যার হয়ে থাকেনি, বরং কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য বিশ্বকাপ উদযাপনের একটি অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে।  চলতি বিশ্বকাপের এই মাহেন্দ্রক্ষণে চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে তিন দশক ধরে এই গেমটি আমাদের ফুটবল দেখার ও খেলার অভিজ্ঞতাকে বদলে দিয়েছে।

পিক্সেলের দুনিয়া থেকে হাইপার-রিয়েলিজম : গ্রাফিক্সের বিবর্তন

সেই ২উ-র দিনগুলো : ১৯৯৩ সালে যখন প্রথম ঋওঋঅ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঝড়পপবৎ বাজারে আসে, তখন খেলোয়াড়দের চেনা তো দূর কী বাত, ইটের মতো পিক্সেল দিয়ে তৈরি অবয়বগুলোকে শুধু এদিক-ওদিক দৌড়ানো যেত।  ারবি ছিল আইসোমেট্রিক (কোনাকুনি)।

৩উ ও ফ্রস্টবাইট ইঞ্জিন : ১৯৯৬ সালে গেমটি প্রথম থ্রিডি-র যুগে পা রাখে।  আর বর্তমানে এর-ঐুঢ়বৎগড়ঃরড়হ এবং ঋৎড়ংঃনরঃব প্রযুক্তির কল্যাণে মেসিল-এমবাপ্পেদের গায়ের ঘাম, চুলের স্টাইল থেকে শুরু করে গোল করার পর তাদের সিগনেচার উদযাপনÑ সবকিছু একদম জীবন্ত দেখায়।

বিশ্বকাপের বিশেষ আকর্ষণ : ‘ওয়ার্ল্ড কাপ মোড’ প্রতি চার বছর পর পর যখন আসল বিশ্বকাপ আসে, তখন এই গেমের রূপ পুরোপুরি বদলে যায়। অফিশিয়াল থিম সং, আসল বিশ্বকাপের ট্রফি, নিখুঁতভাবে তৈরি করা টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল স্টেডিয়ামগুলো গেমারদের ঘরের ভেতরেই কাতারের লুসাইল বা ব্রাজিলের মারাকানার আবহ এনে দেয়। আসল বিশ্বকাপে নিজের প্রিয় দল গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলে কী হবে? গেমাররা প্লে-স্টেশনের কন্ট্রোলার কিংবা ডেস্কটপের কীবোর্ড হাতে তুলে নিয়ে নিজের প্রিয় দলকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ছাড়েন!

গেমের ভেতরের বৈচিত্র্যময় দুনিয়া

ফিফা গেমের জনপ্রিয়তার মূল রহস্য লুকিয়ে আছে এর দারুণ সব গেম মোডের মধ্যে: আলটিমেট টিম; বর্তমান যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোড। এখানে অনলাইনের মাধ্যমে প্যাক খুলে পেলের মতো অতীত কিংবদন্তি আর হল্যান্ডের মতো বর্তমান তারকাদের একসঙ্গে একই দলে খেলিয়ে নিজের স্বপ্নের ‘বিশ্বকাপ স্কোয়াড’ বানানো যায়। 

ক্যারিয়ার মোড; ম্যানেজার বা প্লেয়ার হয়ে একদম রুট লেভেল থেকে ট্রফি জয়ের জার্নি শুরু করার রোমাঞ্চ।  ভোল্টা; যারা বিশ্বকাপের বড় মাঠের বাইরে পাড়ার ফুটবলের ড্রিবলিং আর স্কিল পছন্দ করেন, তাদের জন্য স্ট্রিট ফুটবলের নস্টালজিক মোড। ফুটবল সংস্কৃতি ও সাউন্ডট্র্যাকের জাদু ফিফা গেমের আরেকটি বড় শক্তি এর মিউজিক।

প্রতি বিশ্বকাপে গেমের ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজা গানগুলো আভিচির গানগুলো গেমারদের স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে গেছে। ম্যাচ জেতার পর বা দল সাজানোর সময় এই গানগুলো টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।  ফিফা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ায় ২০২৩ সাল থেকে গেমটির নাম বদলে ‘ঊঅ ঝঢ়ড়ৎঃং ঋঈ’ রাখা হয়েছে।

কিন্তু নাম বদলালেও গেমের ভেতরের আসল লাইসেন্সড টিম, লিগ এবং বিশ্বকাপের সেই চিরচেনা রোমাঞ্চ বিন্দুমাত্র কমেনি।