ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

গতির নয়, সংযোগের নতুন যুগ

 ইনফোটেক ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

ঢাকার একটি ব্যস্ত করপোরেট অফিস। দিনের কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শতাধিক কর্মী একই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছেন। কেউ ক্লাউডে সফটওয়্যার তৈরি করছেন, কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, আবার কেউ রিয়েল-টাইম ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিচ্ছেন। একই সময়ে অফিসের নিরাপত্তা ক্যামেরা, স্মার্ট ডিভাইস ও অসংখ্য আইওটি সেন্সরও একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক মিলিসেকেন্ডের বিলম্ব কিংবা সামান্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াও পুরো কাজের গতি থামিয়ে দিতে পারে। এটাই বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বের বাস্তবতা। তাই এখন আর শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেটই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন এমন একটি প্রযুক্তি, যা সব সময় নির্ভরযোগ্য, স্থিতিশীল এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতে পারে। এই প্রয়োজন থেকেই আসছে ওয়াই-ফাই ৮ পরবর্তী প্রজন্মের তারহীন ইন্টারনেট প্রযুক্তি। বর্তমানে উন্নয়নাধীন অর্থাৎ ওয়াই-ফাই ৮, আগের প্রজন্মের ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির মতো কেবল গতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আসছে না। এর মূল লক্ষ্য হলো নির্ভরযোগ্য সংযোগ নিশ্চিত করা। প্রযুক্তিবিদদের মতে, ভবিষ্যতের ইন্টারনেট হবে এমন, যেখানে নেটওয়ার্ক শুধু ডিভাইসকে সংযুক্ত রাখবে না, বরং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে নিজেই নিজের কার্যক্ষমতা উন্নত করবে। এই প্রযুক্তিতে যুক্ত হচ্ছে একাধিক নতুন সুবিধা।

মাল্টি-অ্যাক্সেস পয়েন্ট কো-অর্ডিনেশন ব্যবস্থায় একাধিক রাউটার সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ফলে সিগন্যালের সংঘর্ষ কমবে, নেটওয়ার্কের চাপ ভাগ হয়ে যাবে এবং বড় অফিস, শপিং মল বা স্টেডিয়ামের মতো জায়গাতেও স্থিতিশীল সংযোগ পাওয়া যাবে। ডাইনামিক সাব-চ্যানেল অপারেশন প্রযুক্তি স্পেকট্রাম আরও দক্ষভাবে ব্যবহার করবে, যার ফলে একই সময়ে অনেক ব্যবহারকারী অনলাইনে থাকলেও ডেটা আদান-প্রদান বাধাগ্রস্ত হবে না। অন্যদিকে এনহ্যান্সড লং রেঞ্জ প্রযুক্তি দূরের ডিভাইসেও শক্তিশালী সংযোগ নিশ্চিত করবে। ওয়াই-ফাই ৮-এর আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত কম ল্যাটেন্সি। অনলাইন গেমিং, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটি, রোবট নিয়ন্ত্রণ কিংবা লাইভ ভিডিও যোগাযোগের মতো কাজে কয়েক মিলিসেকেন্ডের বিলম্বও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। নতুন এই প্রযুক্তি সেই বিলম্ব কমিয়ে আরও দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নেটওয়ার্ক নিজেই ট্রাফিক বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পারফরম্যান্স সমন্বয় করতে পারবে।

যেখানে বদলে যাবে প্রযুক্তির ব্যবহার ওয়াই-ফাই ৮-এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, শিক্ষা এবং স্মার্ট সিটির মতো খাতে। টেলিমেডিসিন কিংবা রিমোট সার্জারিতে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। নিরবচ্ছিন্ন ও কম ল্যাটেন্সির সংযোগ চিকিৎসকদের আরও নিরাপদভাবে দূর থেকে চিকিৎসা দিতে সহায়তা করবে। শিল্পকারখানায় রোবট, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র এবং আইওটি সেন্সরের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

সেখানে নেটওয়ার্কে সামান্য সমস্যা উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে। ওয়াই-ফাই ৮ সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে। একইভাবে স্মার্ট হোমে একসঙ্গে স্মার্ট টিভি, নিরাপত্তা ক্যামেরা, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের সময়ও নেটওয়ার্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না। বাংলাদেশেও ডিজিটাল সেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সেন্টার, স্মার্ট অফিস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। আগামী দিনে স্মার্ট সিটি, স্মার্ট কারখানা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত হলে উন্নত তারহীন নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়বে।