ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সিডিউল বিড়ম্বনায় পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে

জালালউদ্দিন সাগর, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম

বেলা প্রায় ৩টার কাছাকাছি। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে ‘মহানগর গোধূলি’। সবকিছু ঠিকঠাক। বারবার হুইসেল বাজাচ্ছেন লোকোমাস্টার। মাইকে ভেসে আসছে ট্রেন ছাড়ার সতর্কবার্তা। সরকারি বন্ধের দিন। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। ৩টা পেরিয়ে ০৫; যার যার আসনে বসেছেন যাত্রীরা। বন্ধের দিন, তাই ভিড় কম। শেষ সময়ে যাত্রীদের হাঁকডাক নেইÑ নেই দৌড়ে ওঠার মতো ব্যস্ততাও। নীরব প্ল্যাটফর্ম। ৩টা পেরিয়ে ২০ মিনিটÑ তার পরও ছাড়ছে না ট্রেন। থেমে গেছে লোকোমটিভের বাজানো সেই হুইসেলটাও। সাড়ে ৩টা পেরিয়ে ৪টার ঘরে ঘড়ির কাঁটা। স্টেশনে বাড়ছে যাত্রীদের অস্থিরতা, বাড়তে শুরু করেছে হইহুল্লোড়ও।

ট্রেনে বসা যাত্রীরা নামতে শুরু করেছে প্ল্যাটফর্মে। এরে-তারে জিজ্ঞেস করেও অনির্ধারিত এই বিলম্বের কারণ জানতে পারেননি কোনো যাত্রী। যে ট্রেন ৩টায় ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল, সেই ট্রেন সেদিন ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছেড়েছিল পৌনে ৫টায়Ñ মানে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা প্রবাল এক্সপ্রেসে ওঠা ঢাকাগামী কিছু যাত্রী থাকায় ওপরের(!) নির্দেশে বাধ্য হয়ে পৌনে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় মহানগর গোধূলিকে। যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ছাড়া বিশেষ কোনো যাত্রীর জন্য স্টেশনে ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখাকে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শুধু মহানগর গোধূলিই নয়, ‘লেট লতিফের’ তালিকায় পূর্বাঞ্চলের প্রায় সব ট্রেন।

১৬ ডিসেম্বর মহানগর গোধূলিতে ঢাকাগামী যাত্রী আয়েশা আকতার অভিযোগ করে বলেন, নিরাপদ বাহন মনে করে আমরা সব সময় ট্রেনেই ভ্রমণ করি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিটি ট্রেনই অনেক বেশি দেরি করে ছাড়ে। একই সঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছাতেও অতিরিক্ত সময় নেয় বেশি। তিনি আরও বলেন, অনেক অসুস্থ মানুষ ট্রেনে করে ঢাকায় যায় চিকিৎসক দেখাতে। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে তারা অনেক বেশি বিড়ম্বনার শিকার হয়। শিশুদের অবস্থা তো আরও খারাপ।

চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে সবচেয়ে আধুনিক বিরতিহীন ট্রেনের মধ্যে যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’; সেই ট্রেনও নাম লিখিয়েছে লেট লফিতের তালিকায়। গত ২৪ ডিসেম্বর, বুধবার বিকেল ৫টায় ‘সোনার বাংলা’ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও আন্তঃনগর এই ট্রেন চট্টগ্রাম ছেড়েছে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট পরÑ সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে। রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে গন্তব্যে (ঢাকা) পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় হলেও সেদিন সোনার বাংলা ঢাকায় পৌঁছায় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট দেরিতেÑ রাত সাড়ে ১২টায়। এই ‘বিলম্ব’ শুধু অনাকাক্সিক্ষত বা এক দিনের জন্য নয়, সোনার বাংলার শিডিউল বিপর্যয়ের ‘কলঙ্ক’ অনেক দিন থেকেই। সূত্র বলছে, শুধু ডিসেম্বর মাসেই সোনার বাংলার শিডিউল বিলম্বিত হয়েছিল ৯ দিন।

এর মধ্যে ৫ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট দেরিতে চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ে সোনার বাংলা। ঢাকায় পৌঁছায় নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর। ৬ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট দেরি করে চট্টগ্রাম ছাড়ে আন্তঃনগর এই ট্রেন। ঢাকায় পৌঁছায় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট দেরিতে। ১৯ ডিসেম্বর সোনার বাংলা ঢাকায় পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নেয় ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট। ২০ ডিসেম্বর একই দুরবস্থা সোনার বাংলার। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ৩৫ মিনিট দেরি করে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নেয় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ৩০ মিনিট দেরিতে ছেড়ে সোনার বাংলা ঢাকায় পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নেয় দেড় ঘণ্টা। ২৭ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার পরিবর্তে চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ে সন্ধ্যা ৭টায়। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ২ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়া সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকায় পৌঁছায় নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রিত ৫৮টি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে আপ অ্যান্ড ডাউনে ৩২টি ট্রেনের টাইম শিডিউল পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলা একমাত্র সুবর্ণ এক্সপ্রেস ছাড়া বাকি সবগুলো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত যাত্রীরা। টাইম শিডিউল পর্যবেক্ষণ করা ট্রেনগুলো হলোÑ মহানগর গোধূলি (৭০৩-৭০৪), পারাবত (৭০৯-৭১০), উপকূল (৭১১-৭১২), জয়ন্তিকা (৭১৭-৭১৮), পাহাড়িকা (৭১৯-৭২০), মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১-৭২২), উদয়ন (৭২৩-৭২৪), উপবন (৭৩৯-৭৪০), তূর্ণা (৭৪১-৭৪২), কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩-৭৭৪), বিজয় (৭৮৫-৭৮৬), সোনার বাংলা (৭৮৭-৭৮৮), কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৩-৮১৪), পর্যটন এক্সপ্রেস (৮১৫-৮১৬), সৈকত (৮২১-৮২৪), প্রবাল (৮২২-৮২৩)।

তথ্যসূত্র বলছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া মহানগর গোধূলি (৭০৩) চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ার নির্ধারিত সময় বিকাল ৩টা। গত ডিসেম্বর মাসে গোধূলি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ে ৫ দিন। সর্বোচ্চ বিলম্বিত সময় ছিল গত ১৬ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। এর মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ বিলম্বিত সময় নিয়েছে একই দিন। বিলম্বিত সময় ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। এ ছাড়া ৬ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা, ১০ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা, ১৭ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট, ২০ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট, ২১ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট এবং ২৭ ডিসেম্বর ৫৫ মিনিট বিলম্বিত সময় নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায় গোধূলি।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে চলা মহানগর প্রভাতী (৭০৪) ডিসেম্বর মাসে ডিলে ছিল ১৭ দিন এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রতিদিনই দেরি করেছে আন্তঃনগর এই ট্রেন। তথ্যসূত্র বলছে, ৫ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট পর চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকা স্টেশন ছাড়ে মহানগর প্রভাতী। চট্টগ্রামে পৌঁছায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট দেরিতে। ৬ ডিসেম্বরও দেরি করে ৪০ মিনিট। ১৫ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট পর ঢাকা ছাড়লেও চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পর। ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা থেকে ছাড়তে এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিলম্ব করে প্রভাতী এবং চট্টগ্রামে পৌঁছাতে প্রতিদিনই অতিরিক্ত সময় নেয় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সময় নেয় গত ২৬ ডিসেম্বর। এদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগে ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ‘তূর্ণা’ (৭৪১) ডিসেম্বর মাসের ২৬ কার্যদিবসের মধ্যে স্টেশন ছাড়তে দেরি করে সাত দিন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দেরি করে ২১ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটি, ২২ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট, ২৬ ডিসেম্বর ৪০ মিনিট। ডিসেম্বর মাসে গন্তব্যে পৌঁছাতে ‘তূর্ণা’ সর্বোচ্চ সময় নেয় গত ৩ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রাম ছাড়লেও এদিন আন্তঃনগর এই ট্রেন ঢাকায় পৌঁছায় ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পর। এ ছাড়া ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নেয় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। ১০ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, ১৯ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট, ২১ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট, ২২ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, ২৬ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট এবং ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় নেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর এই ট্রেন।

অন্যদিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘তূর্ণা’ (৭৪২) ডিসেম্বর মাসে লেট লতিফের তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৭ দিন। এর মধ্যে ৫ ডিসেম্বর ৫৫ মিনিট পর ঢাকা ছাড়ে, চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দেরি করে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ৭ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ডিলেতে ছেড়ে গন্তব্যে পৌঁছায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর। ৮ ডিসেম্বর ৪৫ মিনিট পর ঢাকা ছাড়ে, চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দেরি করে ২০ মিনিট। ৮ ডিসেম্বর ৪৫ মিনিট পর ঢাকা ছাড়ে, চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দেরি করে ২০ মিনিট। ১৪ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট পর ঢাকা ছাড়ে, চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দেরি করে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট। ১৬ ও ১৮ ডিসেম্বর ৪৫ থেকে ৫৫ মিনিট পর ঢাকা ছাড়ে তূর্ণা। ১৭ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট পর ঢাকা ছাড়ে, চট্টগ্রাম পৌঁছাতে দেরি করে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট। ২০ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট পর ঢাকা ছাড়ে, চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দেরি করে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ২৬ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা পর ঢাকা ছাড়ে, চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দেরি করে ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট। ২৭ ডিসেম্বর ৩৫ মিনিট দেরিতে ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নেয় ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট। ২৮ ডিসেম্বর ৪৫ মিনিট দেড়িতে ঢাকা স্টেশন ছাড়ে তূর্ণা। ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়ে ঢাকা ছাড়লেও চট্টগ্রামে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নেয় ৪ ঘণ্টা ৫ মিনিট। 

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের (৭১৯) শিডিউল বিপর্যয় আরও নাজুক। ডিসেম্বর মাসে ২৬ (সাপ্তাহিক বন্ধ বাদে) দিনের মধ্যে গন্তব্য ছাড়তে ১৭ দিনই দেরি করে পাহাড়িকা। এর  মধ্যে গন্তব্য ছাড়তে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত সময় নিয়েছে গত ২১ ডিসেম্বরÑ ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এবং ২৮ ডিসেম্বর ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। ডিসেম্বর মাসে গন্তব্যে (সিলেট) পৌঁছাতে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত সময় লেগেছে গত ২, ২১ ও ২৮ ডিসেম্বরÑ তিন দিনই অতিরিক্ত সময় লেগেছে ৫ ঘণ্টা ২০ থেকে ২৫ মিনিট করে। এ ছাড়া ২ ডিসেম্বর গন্তব্য ছেড়েছে ৫৫ মিনিট দেরিতে। ৪ ডিসেম্বর ৩০ মিনিট, ৬ ডিসেম্বর ৫৫ মিনিট, ৭ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, ৯ ও ১০ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট করে, ১১, ১৩, ১৪ ডিসেম্বর প্রতিদিনই ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট বিলম্বিত সময় নিয়ে স্টেশন ছেড়েছে পাহাড়িকা। ১৬ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট, ২০ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, ২৫ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট, ২৬ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট, ২৭ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ও ৩১ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট দেরিতে চট্টগ্রাম ছাড়ে সিলেটগামী আন্তনগর এই ট্রেন।

তথ্য সূত্র বলছে, ২ ডিসেম্বর ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট দেরিতে সিলেটে পৌঁছায় পাহাড়িকা। ৬ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, ৬ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট, ৯ ডিসেম্বর ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট, ১০ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট, ১১ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, ১৩ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, ১৪ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট, ১৬ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট, ২০ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, ২৫ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট, ২৬ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং ৩১ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট বিলম্ব সময়ে সিলেটে পৌঁছায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস।

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের (৭২৩) ডিসেম্বর মাসে স্টেশন (চট্টগ্রাম) ছাড়তে বিলম্ব হয়েছে ১৫ দিন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বিলম্ব হয়েছে ২২ ডিসেম্বর ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। ডিসেম্বর মাসে গন্তব্যে (সিলেট) পৌঁছাতে সর্বোচ্চ বিলম্ব হয়েছে গত ২১ ও ২২ ডিসেম্বর। দুই দিনই চট্টগ্রামে পৌঁছাতে ৮ থেকে সাড়ে ৮ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় নিয়েছে উদয়ন। এ ছাড়া ৭ ডিসেম্বর স্টেশন ছেড়েছে ১ ঘণ্টা পর, ৮ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা, ১৩ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট, ১৪ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, ১৫ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট, ১৬ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট, ১৭ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট, ২৩ ডিসেম্বর ৫০ মিনিট, ২৭ ডিসেম্বর ৪০ মিনিট, ২৮ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট, ২৯ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট, ৩০ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।

উদয়ন এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নেয় ১ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, ২ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট, ৩ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট, ৬ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট, ৭ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা, ৮ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট, ১০ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট, ১২ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা ৫ মিনিট, ১৩ ডিসেম্বর ৫ ঘণ্টা ৫ মিনিট, ১৪ ডিসেম্বর ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, ১৫ ডিসেম্বর ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট, ১৬ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা ৫ মিনিট, ১৭ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট, ২৩ ডিসেম্বর ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট, ২৬ ডিসেম্বর ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, ২৭ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা ৫ মিনিট, ২৮ ডিসেম্বর ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিট, ২৯ ডিসেম্বর ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট এবং ৩০ ডিসেম্বর ৩ ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছায় সিলেটগামী আন্তঃনগর এই ট্রেন।

শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে রেলওয়ে পর্বাঞ্চলের জনসংযোগ কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, অনেকগুলো ইঞ্জিন পুরোনো হয়ে যাওয়ায় অকেজো হয়ে পড়েছে। ইঞ্জিন-স্বল্পতার কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার সুবক্তগীণকে একাধিকবার কল দেওয়ার পরও তিনি কল রিসিভ করেননি।