× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৭:১৩ এএম

ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা ইশতেহার

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৭:১৩ এএম

ইসলামী আন্দোলনের  ৩০ দফা ইশতেহার

দেশের ‘স্থায়ী শান্তি’ ও ‘মানবতার সার্বিক মুক্তির’ লক্ষ্যে সর্বত্র শরিয়াহকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ধর্মভিত্তিক দলটি বলছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় গেলে তারা ‘নৈতিকতায় সমৃদ্ধ কর্মমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক’ শিক্ষাব্যবস্থা চালু করবে। নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়, ‘অগ্রাধিকার’ দেবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ‘পারস্পরিক সহাবস্থান’ নিশ্চিত করবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশতেহার জাতির সাথে একটি প্রতিজ্ঞা। আপনাদের সমর্থনে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে এই ইশতেহারের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশতেহারের শিরোনাম ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’। ৩০টি মৌলিক দফা এবং ১২টি বিশেষ কর্মসূচি দিয়ে এই ইশতেহার সাজানো হয়েছে। রেজাউল করীম বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পরিচালক ও রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ হয়। আর নির্বাচনের আগে ইশতেহারের মাধ্যমে জাতির সামনে দলের নীতি-ভাবনা ও দেশ গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তার নীতি-ভাবনা ও দেশ গঠনের রূপরেখা ও কর্মসূচি উপস্থাপন করার জন্য এই ইশতেহার পেশ করছি।

ইসলামী আন্দোলনের ৩০টি অঙ্গীকার :

দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন।  দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্রপরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহর প্রাধান্য। কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকার ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ গঠন। নৈতিকতায় সমৃদ্ধ কর্মমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা। সার্বজনীন কর্মসংস্থান। পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্র সংস্কার। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা। আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।  নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারসহ সব জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও মানবাধিকারের সুরক্ষা। রাষ্ট্র-সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ। সবার জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা। পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় গুরুত্ব।  ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান। শুধু দুর্নীতি-সন্ত্রাস দমন নয়; নির্মূলকরণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে।

শুধু আইনের শাসন নয়; ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা। জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি বাস্তবায়ন। মানুষের সার্বিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয় করা। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন ও অনৈতিক পেশার সাথে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা। খুন, গুম, মিথ্যা, গায়েবি মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের বিলোপ। জনগণের বাক-স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়; অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া, গ্যাস, বিদুৎ, পানি, স্যুয়ারেজ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওয়ানস্টপ সার্ভিস কর্মসূচি গ্রহণ। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিদ্যমান সমস্যা দূর করে এই খাতে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বৈশ্বিক মানে উন্নীত করা। সড়ককে নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ। বাংলাদেশকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নত ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা।  শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। সরকারি চাকরিজীবীদের জাতীয় পে-স্কেল যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ সম্মানজনক করা।

এ ছাড়া নাগরিকদের জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ইসলামী আন্দোলন ১২ দফা বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার কথা বলেছে। হতদরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা। প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন একবেলা করে পুষ্টিকর খাবার।

১৮ থেকে ২৪ বছরের যুবদের জন্য সুদমুক্ত, জামানতবিহীন এককালীন ঋণের ব্যবস্থা করা। সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বা স্বাস্থ্যকার্ড, ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণ দেওয়া ও বিভিন্ন সেবা সহজে পৌঁছাতে কৃষিকার্ড চালু করা। ন্যাশনাল জব পোর্টাল চালু করা, যেখানে সব পেশার চাকরিপ্রার্থীদের জন্য দেশে ও বিদেশে চাকরি খোঁজা, পরামর্শ প্রদান ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুবিধা থাকবে। 

কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দিবাযতœ কেন্দ্র গড়ে তোলা। ঢাকাসহ সব নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্রাঞ্চাইজভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা।  সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা। সবার জন্য নির্বিঘেœ নাগরিক সেবা। নারী পোশাককর্মীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া। কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়ন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!