প্রায় ১৯ মাস বসবাসের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছেড়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই বাড়িতে বাস করছিলেন তিনি। গতকাল শনিবার দুপুরের পর তিনি তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে যমুনা ত্যাগ করেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তিনি জানান, কিছু সময় আগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বাড়িটি ছেড়ে দিয়েছেন বলে তার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার কিছু টুকিটাকি মালপত্র ছিল। সেগুলো তিনি নিয়ে গেছেন।
জানা গেছে, বেলা সোয়া ৩টার দিকে ড. ইউনূস যমুনা ছেড়ে দেন। এ সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। চলে যাওয়ার সময় যমুনার কিছু কর্মচারী-কর্মকর্তা তাকে বিদায় জানান। জানা গেছে, এখন থেকে গুলশানের নিজ বাসভবনে থাকবেন ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই মিজানুর রহমান জানান, স্যার যমুনা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিকেল ৩টার দিকে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা যমুনা ছেড়ে দেবেনÑ এমন নির্দেশনা আমাদের কাছে ছিল। পরে সোয়া ৩টার দিকে তিনি যমুনা ছেড়ে চলে যান। ড. ইউনূসের যমুনা ছাড়ার কথা জানান পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলমও।
এদিকে ড. ইউনূস যমুনা ছাড়ার আগে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রতিনিধিদল। তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়। প্রতিনিধিদলের বাকি দুজন হলেনÑ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক।
প্রসঙ্গত, প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সরকার দায়িত্বে এলেও যমুনাতেই ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরই মধ্যে যমুনায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত বৃহস্পতিবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের তরফে জানানো হয়, মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার বিকেলে যমুনা ছাড়বেন। একই দিন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, গতকাল তিনি যমুনা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকবেন। মাসখানেক সময় লাগবে প্রধানমন্ত্রীর বাসবভবনের কিছু কাজ আছে, তা করতে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে গুলশানে থাকছেন। তিনি সেখান থেকে আবদুল গণি রোডের সচিবালয় ও তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন। ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান তাদের দায়িত্বের দিনগুলো রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই ছিলেন। ২০০৭ সালে এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদও এই ভবনে থেকেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন