× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সালমান ফরিদ, সিলেট

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০১:৩৫ এএম

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন কৃষক

সালমান ফরিদ, সিলেট

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০১:৩৫ এএম

ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

সিলেটে চলতি বোরো মৌসুমে যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন কৃষক। এর কারণ হলো, এই অঞ্চলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও আকস্মিক বন্যা ও ভারী বৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই পুরোপুরি পাকতে না পাকতেই কৃষক তড়িঘড়ি ধান কেটে ঘরে তুলছেন। আগাম বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়ার আগেই হাওরাঞ্চলের প্রায় সব ধান কাটা শেষ করা হয়েছে এবং অন্যান্য এলাকায় এরই মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ ধান গোলায় তুলেছেন কৃষক।

জানা গেছে, বন্যা-বৃষ্টি সম্পর্কে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই মাঠে নেমে পড়েন কৃষকরা। কিন্তু সেখানেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে শ্রমিক সংকটের কারণে।

সিলেট কৃষি বিভাগের হিসাব অনুসারে, আর পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে এই জেলার সব ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব, যদি এই সময়ের মধ্যে বড় কোনো বন্যা না হয়। কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেই আশাতেই অপেক্ষা করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে উজানের ভারী বৃষ্টির কারণে পানি বেড়ে এরই মধ্যে অনেক নিচু হাওরের পাকা ধান তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে সুনামগঞ্জের শনির হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু জমির ধান পানির নিচে চলে যাচ্ছে। তবে আপাতত আগামী কয়েক দিন বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকায় এই সময়ের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুসারে, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও এ বছর সিলেটে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৫৮ এবং সুগন্ধি জাতের মধ্যে ব্রি ধান-৩৪ ও ব্রি ধান-৩৭ ব্যাপকভাবে চাষ হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তা কমেনি। শ্রমিক সংকট, ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং আকস্মিক বজ্রপাত এখন তাদের প্রধান উদ্বেগের কারণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চলের চার জেলাÑ সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৬ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয় এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৭ টন। তবে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জসহ কিছু নিচু এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমির ধান আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা এবং সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী ৩ মে থেকে কার্যকর হবে। কৃষি অধিদপ্তরের দাবি, সার ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। হাওর এলাকায় ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত কম্বাইন্ড হারভেস্টার বা ধান কাটার মেশিনও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে ঝড়-বৃষ্টির আগেই দ্রুত ধান ঘরে তোলা যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আগাম বন্যার তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ধান কাটা এখন পুরোদমে চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ধান কাটা শেষ হবে। কৃষকদের সহায়তায় ডিজেল সরবরাহের জন্য স্লিপের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, তবে খুব কম কৃষকই সেই স্লিপ নিতে আসছেন, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তারা প্রয়োজনীয় ডিজেল নিজ উদ্যোগেই সংগ্রহ করতে পারছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!