× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১২:২৬ এএম

কাটছে অপেক্ষার প্রহর

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১২:২৬ এএম

ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

অবশেষে কাটছে অপেক্ষার প্রহর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৮ এপ্রিল বসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ‘ইউরেনিয়াম’। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ফুয়েল লোডিংয়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি। ৫ বার ফুয়েল বসানোর তারিখ হলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার অজুহাতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র ইস্যু করেনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। অথচ এর আগেই  ফুয়েল লোডিংয়ের পক্ষে সচেতনতা বাড়াতে ও জনগণের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে মাসব্যাপী প্রচার করে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। ফুয়েল লোডিংয়ের পরও অন্তত তিন মাস লাগে এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ফলে আগামী তিন মাস পর অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষে বা আগস্টের শুরুতে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তীব্র জ¦ালানি সংকটের এই সময়ে এই কেন্দ্রটি চালু করতে পারলে তেল এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রেখে অন্য খাতে তা ব্যবহার করে সংকট মেটানো যাবে দাবি করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু রাজনৈতিক গ্যাঁড়াকলের কারণেই এতদিন এটির উদ্বোধন হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফুয়েল লোডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে তারা বলছেন এর মাধ্যমে বর্তমান জ্বালানি সংকটে সরকার অনেকটাই নির্ভার থাকতে পারবে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

গতকাল শুক্রবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্প উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করবে। জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টের শুরুর দিকেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সেই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে। এর মাধ্যমেই ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিংয়ের পথ প্রশস্ত হয়।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে। জ্বালানি লোড করার পর আমরা চূড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ রিপোর্ট তৈরির জন্য বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাব। এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং পর্যায়।

পদ্মা নদীর তীরে ঈশ^রদীতে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে অর্থাৎ ২০২৪ সালের মার্চে এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে পাল্টে যায় সব কিছু। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি উদ্বোধনের কথা জানায়। কিন্তু তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। পরে তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ একাধিকবার বলেছিলেন, ২০২৫ সালের মার্চে এর উদ্বোধন হবে। তাও করতে ব্যর্থ হন তারা। পরে একই বছরের আগস্টে এবং ডিসেম্বরে উদ্বোধনের কথা জানালেও তা আর করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমানে জনগণের রায়ে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকেও চলতি বছরের মার্চের ৭ তারিখ ফুয়েল লোডিং করার কথা জানায়। কিন্তু সবশেষে নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে বাতিল করা হয় এর উদ্বোধন। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যু নয় বরং এর পেছনে রাজনৈতিক গ্যাঁড়াকলই মূল বিষয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাশিয়াপ্রীতির কারণে প্রয়োজন না থাকলেও গড়ে ওঠা প্রকল্পটি আমেরিকান সরকার-ঘনিষ্ঠ অন্তর্বর্তী সরকার উদ্বোধন করতে রাজি না হওয়াতেই তারা তাদের দায়িত্বকালে এটির উদ্বোধন করেনি। এখন বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ¦ালানির বাজারেও প্রবেশ করে ফেলেছে রাজনীতি। আর তার প্রভাবেই বিএনপি সরকারও এটির উদ্বোধনে গড়িমসি করছে দাবি করে জ¦ালানি বিশেষ ম তামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আওয়ামী লীগের বিলাসী এই প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা আগেই শঙ্কিত ছিলাম। এটিও ভারতের আদানির মতো গলার কাঁটার ন্যায় কোনো প্রকল্প হবে কি না তা নিয়েও সংশয় ছিল। কিন্তু সব সংশয় কাটিয়ে কেন্দ্রটি অবশেষে ফুয়েল লোড করতে যাচ্ছে। এতে সাম্প্রতিক সংকটে সরকার স্বস্তি পাবে বলেই মনে করছি।

গ্রীষ্ম, সেচ মৌসুম, শিল্প খাতÑ সব মিলিয়ে দেশের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি এখন পর্যন্ত হয়নি। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকেই দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। চাহিদা না থাকায় অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রকেই বসিয়ে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জ। তারপরও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নেয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিশাল বড় প্রকল্প। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে রাশিয়ার অর্থায়ন রয়েছে ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এটির ফুয়েল লোডিংয়ের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ঈশ্বরদী শহওে নিউক্লিয়ার বাস ট্যুর, উঠান বৈঠক ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ ব্যতিক্রমী সব কর্মসূচিও পালন করে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রাশিয়ার রসাটম এ কার্যক্রমের আয়োজন করলেও এর উদ্বোধন নিয়ে তখনো কেউ সঠিক করে কথা বলেনি। ফলে এখন পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)।

এর আগে শুধু সঞ্চালন লাইনের কারণে উদ্বোধন সম্ভব হচ্ছে না দাবি করলেও সম্প্রতি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ। জ্বালানি লোড করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে সময় লাগবে অন্তত ৩ মাস। পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন আরও ৭ মাস। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে মোট ১০ মাস সময়ের প্রয়োজন। সব প্রস্তুতির প্রেক্ষিতেই গত বছর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে চলতি বছরের মার্চ মাসে উদ্বোধন সম্ভব বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার অজুহাতে সব নিশ্চিত সত্ত্বেও এর প্রথম ইউনিটে ৭ এপ্রিল যে ফুয়েল লোড করা হয়নি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!