ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এম. সাইফুর রহমানের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছেন হুমায়ুন কবির

সালমান ফরিদ, সিলেট
প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ০৫:৪৪ এএম

এ মুহূর্তে বিশ্বনাথে বাসিয়া নদীর তীর ঘেঁষে থাকা পৌনে ৩ কোটি টাকার একটি ‘ভাইরাল সড়ক’ নিয়ে যখন স্থানীয় জনপ্রতিনিদিদের তীব্র সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে এনে সেই বাসিয়া নদী খনন কার্যক্রম শুরু করতে পারায় প্রশংসায় ভাসছেন হুমায়ুন কবির। মাত্র এক মাস আগে, গেল রোজার ঈদের পরে বিশ্বনাথে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে এসে ভরাট হয়ে যাওয়া বাসিয়া নদী পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এরও আগে একবার তিনি নদী দর্শনে গিয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ পরিদর্শনে গিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে বাসিয়ার মরা রূপ দেখে ভীষণ আহত হন তিনি। প্রতিশ্রুতি দেন, তার অগ্রাধিকারে সবার আগে রাখবেন বাসিয়া নদীকে। হুমায়ুন কবির বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার খাল খনন প্রকল্পে থাকবে বাসিয়া খনন কর্মসূচি। তার দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির ফসল অনুযায়ী, গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এসে উদ্বোধন করে গেছেন বাসিয়া পুনর্খনন প্রকল্প। এরপর থেকে বিশ্বনাথসহ পুরো সিলেটে প্রশংসায় ভাসছেন বিশ্বনাথ-ওসমানী নগরের কৃতী সন্তান হুমায়ুন কবির।

সূত্র জানায়, বাসিয়া পরিদর্শন করে ঢাকায় ফিরে হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ বাণিজ্যমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সিলেটের বাসিয়া খননের ব্যাপারে গ্রিন সিগনাল দিলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তোড়জোড় শুরু করে। এরপর ভিন্ন সময়ে নদী পরিদর্শনে আসেন সিলেট-১ আসনের এমপি এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

হুমায়ুন কবিরের আগ্রহে এত ‘দ্রুত বাসিয়া খনন শুরু হবে’Ñ এটি অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। তার আগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা বাসিয়া খনন কর্মসূচি শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

হুমায়ুন কবির ধীরে ধীরে বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগরে রাজনীতি এবং উন্নয়নের প্রশ্নে অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠছেন। তার সহযোগিতায় এরই মধ্যে এলাকায় ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ এবং অসংখ্য সড়ক সংস্কার শুরু হয়েছে। নিজের কোনো ‘বাহিনী’ না থাকায় সেসব প্রকল্পে থাকছে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

তবে শুধু এসব কারণে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন না। তার কথা বলার ঢং, কথার ভেতরে থাকা সারল্য, শুদ্ধ-আঞ্চলিক মিশেল বক্তৃতা নজর কাড়ছে সবার। সিলেটে কোনো বক্তৃতা করলে তিনি সাধারণত শুদ্ধ ভাষা এড়িয়ে চলেন। এমনকি গত ২ মে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুধী সমাবেশে তিনি সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য দিয়ে নজর কাড়েন। ব্রিটেনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ক্ষমতার জায়গা, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং ব্রিটেন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে উঠে আসা হুমায়ুন কবির হাল ধরেছেন তার জন্মভূমি বাংলাদেশের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন এবং বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়েও তার মাঝে নেই অহংকার। সহজেই মিশে যান মানুষের সঙ্গে। দ্রুত আপন করে নেন সবাইকে। ব্রিটেনের আলো-বাতাস ও সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠার পরও হুমায়ুন কবিরের মুখম-লে বিরাজমান হাস্যোজ্জ্বল প্রতিকৃতি, সরলতা ও ধ্যানে-জ্ঞানে সিলেটপ্রীতিতে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের ছায়া ফুটে উঠছে। অনেকেই তার মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকে খুঁজতে শুরু করেছেন। সেই তিনি বাসিয়া নদী খনন শুরু হওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন বিশ্বনাথে এবং পুরো সিলেটে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল বহুদিন ধরে দখলে-ভরাটে বিলীন হতে চলা বাসিয়া নদী খনন কার্যক্রম। বাসিয়া অববাহিকায় যা আমূল পরিবর্তন ঘটাবে বলে সরকার ও বেসরকারি তরফ থেকে বলা হচ্ছে।

অতীতে এম. সাইফুর রহমান সুযোগ পেলেই বলতেন, ‘সিলেটের উন্নয়নের জন্য আমি আছি’। এখন হুমায়ুন কবিরও সিলেট নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেলে বলেন, ‘সিলেটের উন্নয়নের জন্য বলতে হবে না, আমরা আছি।’

ওসমানী নগরের আটগাঁও গ্রামের আফসার আহমদ বলেন, আমরা উন্নয়ন এবং সিলেটপ্রীতির প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের মধ্যে এম. সাইফুর রহমান এবং ইলিয়াস আলীর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি। রাজনৈতিক নেতৃত্বশূন্যতার হতাশার মাঝে তিনি আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছেন।

বিশ্বনাথ উপজেলার গন্ধার কাপন গ্রামের বাসিন্দা, সাবেক সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিদ আলী বলেন, বাসিয়া নদী খননে তার ভূমিকায় আমরা মুগ্ধ। ভরাটে এবং দূষণে নদীটি আজ রীতিমতো হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় এই নদী দিয়ে লঞ্চ, স্টিমার পণ্য পরিবহন করত। আজ সেটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। বেশির ভাগ এলাকা পুরো শুষ্ক মৌসুম শুকনো থাকে। নদী খনন হলে এর অবসান ঘটবে বলে মনে করছি।

রাজনৈতিক সূত্র জানায়, হুমায়ুন কবির তার নির্বাচনি এলাকা বিশ্বনাথ-ওসমানী নগরের রাজনীতি এবং গণমানুষের কাছে ব্যাপক আগ্রহের জায়গা তৈরি করে চলেছেন। সিলেটে এলে তিনি চষে বেড়ান সর্বত্র। সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে দলের নেতাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক দ্রুত বাড়ছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য স্থানীয়রা তার দিকেই এখন বেশি ঝুঁকছেন। কোনো আবদার তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন না। এমনকি উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে তার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্য কাজের চেয়ে তার তদারকিতে হওয়া কাজগুলো হচ্ছে টেকসই ও যুগোপযোগী।

হুমায়ুন কবির তার এলাকায় ঝিমিয়ে পড়া এবং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হওয়া দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা করে তুলছেন। অতীতে যারা দলীয় কার্যক্রম থেকে নানা কারণে হাত গুটিয়ে বসে থাকতেন, গত জাতীয় নির্বাচনে তারাও মাঠে নেমে দলের জন্য কাজ করেছেন। যে কারণে এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইলিয়াসপতœী তাহসিনা রুশদির লুনা রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করেন। ওসমানী নগরে তার জয়ের পেছনে হুমায়ুন কবিরের ভূমিকা ছিল উল্লেখ করার মতো। সেখানকার কেন্দ্রগুলো থেকে তিনি জয় নিয়ে এসেছেন।