জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্বজনকে নিয়ে যাচ্ছিলেন হাসপাতালে। পথে সেই স্বজনদেরই জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিল বেপরোয়া বাস। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দা সদর উপজেলার শংকরপাশা এলাকায়। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই এলাকায় যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাসের সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেনÑ মাদারীপুর সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ী এলাকার জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬৫), তার স্ত্রী মাজেদা আক্তার (৫৫), জাহাঙ্গীর মোল্লার ভাই আলমগীর মোল্লা (৬০) ও তার স্ত্রী খুশিদা বেগম (৫০)। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সের চালক একই এলাকার কাওছার হোসেন (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিআরটিসির বাসটি ফরিদপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্সটি মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরে আসছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে নগরকান্দা ফায়ার সার্ভিস ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে চালকসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনায় বাসটির বড় কোনো ক্ষতি না হলেও কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হন।
জাহাঙ্গীর মোল্লার ভাগ্নি জাফরিন আক্তার বলেন, ‘আমার মেজ মামা আলমগীর মোল্লা কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেন। তাকে ফরিদপুরে ডাক্তার দেখানোর জন্য সকাল ৯টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রওনা হন সবাই। আমার মামার আর চিকিৎসা করানো হলো না। একই সঙ্গে আমার দুই মামা ও মামিকে আল্লাহ নিয়ে গেল।’
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালায়। অ্যাম্বুলেন্সের চার যাত্রী ও চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। লাশগুলো উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন