চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ম-উপযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান কন্টেইনার জট নিরসনে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। বন্দরের ভৌত, আর্থিক ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য ১০২ কন্টেইনার পণ্য অনলাইন নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৮ জুন বেলা ১১টায় এই ই-অকশনের দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহী ক্রেতা ও বিডারদের ই-অকশন পোর্টাল ভিজিট করার অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত নিলামের বিশেষ আদেশ (নং- ৮২/২০২৫/কাস্টম) অনুসারে, চলতি জুন মাসের এই নিলাম কার্যক্রমটি ‘ই-অকশন-৬/২০২৬’ নামে পরিচালিত হবে। মোট ৪৪টি লটে এই ১০২ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি করা হবে। নিলামে ওঠা পণ্যের তালিকায় রয়েছেÑ বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, শিল্প-কারখানার যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, কাগজ, ফ্রিজার, জেনারেটর, লাইম স্টোন, ফেব্রিক্স, ট্রান্সফরমার, কোয়ার্টজ পাউডার এবং গৃহস্থালি পণ্য।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, এবারের নিলামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলোÑ এসব পণ্য চালানের জন্য কোনো সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা থাকছে না। নিলাম প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক এবং অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক করতে ডিজিটাল ই-অকশন পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।
আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে (যঃঃঢ়://ধঁপঃরড়হ.হনৎ.মড়া.নফ/ধঁপঃরড়হ/৩০১) নিবন্ধন করে অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। তবে বিডারদের সুবিধার্থে অনলাইনে দরপত্র দেওয়ার আগে সরেজমিনে বন্দরে গিয়ে পণ্য দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
অনলাইনে দরপত্র দাখিলের পাশাপাশি জামানতের পে-অর্ডার ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে দাখিল করতে হবে। চূড়ান্তভাবে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হওয়ার পর, ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪’-এর প্রযোজ্য শর্তাবলি মেনে পণ্য খালাস করতে পারবেন ক্রেতারা।
চট্টগ্রাম বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত ও গতিশীল রাখতে কাস্টমস হাউসের এই নিলাম কার্যক্রম আগামীতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

