ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ কোটি ২০ লাখ মশা ছাড়ার আবেদন গুগলের

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৫:৫৬ এএম

প্রযুক্তি দুনিয়ায় ‘বাগ’ বা সফটওয়্যারের ত্রুটি দূর করতে গুগলের জুড়ি নেই। তবে এবার তারা নজর দিয়েছে বাস্তব দুনিয়াদারির দিকে। সেই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ক্ষতিকর মশা দমনে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে গুগল। রোগবাহী মশার বংশ বৃদ্ধি রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ কৃত্রিমভাবে বন্ধ্যা করা পুরুষ মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়েছে এই টেক জায়ান্ট। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের ‘ডিব্যাগ’ প্রকল্পের আওতায় এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) বর্তমানে এই আবেদনটি পর্যালোচনা করছে এবং আগামী ৫ জুনের মধ্যে জনসাধারণের মতামত গ্রহণ শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। গুগলের প্রস্তাব অনুসারে, আগামী দুই বছর ধরে প্রতি বছর ১ কোটি ৬০ লাখ করে পুরুষ মশা প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।

পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী পতঙ্গ মশা ডেঙ্গু, জিকা, চিকুনগুনিয়া, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস এবং ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়ায়। এসব রোগে প্রতিবছর বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। এই বিপর্যয় ঠেকাতে গুগল মূলত বিজ্ঞানসম্মত ‘স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক’ বা বন্ধ্যা কীট পদ্ধতি ব্যবহার করছে। গবেষণাগারে পুরুষ মশাদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ‘ওলবাকিংয়া’ নামক একটি ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করানো হয়। এই বিশেষ ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পুরুষ মশা যখন প্রকৃতির সাধারণ নারী মশার সঙ্গে মিলিত হবে, তখন নারী মশার ডিম থেকে আর নতুন কোনো মশার জন্ম হবে না। ফলে পর্যায়ক্রমে মশার বংশবৃদ্ধি কমে আসবে। উল্লেখ্য, পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না এবং রোগও ছড়ায় না, তাই এগুলো মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

সাধারণত কীটনাশক ছিটানো কিংবা মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার মতো প্রচলিত পদ্ধতিগুলো দিন দিন কার্যকারিতা হারাচ্ছে এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। এই সংকট সমাধানে গুগলের প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা ডেটা অ্যানালিটিক্স, সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইচালিত কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পুরুষ ও নারী মশা আলাদা করা হয় এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে সঠিক সংখ্যায় পুরুষ মশা অবমুক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে গুগল ‘এডিস ইজিপ্টি’ মশা দমনে মনোযোগ দিচ্ছে, যা ডেঙ্গু ও জিকার মতো রোগ ছড়ানোর জন্য প্রধানত দায়ী।