ইতালি ও জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মানবপাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। এই চক্রটি এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকেই কৌশলে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ মো. এজাজুল হক রতন (৬৩), মোছা. নার্গিস বেগম (৪০) এবং মো. বাদল (৫৫)। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব ৪-এর কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়তি সংবাদ সম্মেলনে জানায়, গাজীপুরের বাসিন্দা ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তি র্যাবের কাছে অভিযোগ করেন যে তিনি মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি ডিএমপির শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৪ এর একটি দল গত শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগে চাকরি করেন। গ্রেপ্তারকৃত নার্গিস ও বাদল কয়েক বছর আগে ইমরানের বাড়ির পাশে থাকতে শুরু করেন এবং তার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তারা ইমরানকে ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখান এবং তাদের পরিচিত এজেন্টের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেন। এরপর তারা ইমরানকে মূলহোতা এজাজুল হক রতনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। রতন ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে ইমরানকে ইতালি পাঠানোর চুক্তি করেন। ইমরান রাজি হয়ে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর মিরপুরে রতনের অফিসে এসে নগদ ৭০ হাজার টাকা দেন এবং পরবর্তীতে আরও ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এরপর রতন সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে জানান যে, ইতালি সরকার লোক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান।

