জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরমে বাঙালির পাতে এখন শোভা পাচ্ছে রসালো ও মিষ্টি আম। ক্যালেন্ডার মেনে রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা কিংবা চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাহারি জাতের আমে জমে উঠেছে বাজার। তবে আম কেবল তার অনন্য স্বাদের জন্যই ফলের রাজা নয়, বরং এর রয়েছে নানাবিধ পুষ্টিগুণ। চিকিৎসাবিদ ও পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক নিয়মে ও পরিমিত পরিমাণে আম খেলে ওজন বৃদ্ধি কিংবা স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে এর শতভাগ উপকারিতা পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা জানান, পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন ও পটাশিয়াম থাকে। কাঁচা আমের তুলনায় আঁশযুক্ত পাকা আম পেকটিন নামক উপাদানে সমৃদ্ধ, যা পাকস্থলীর পরিপাক ক্রিয়াকে উন্নত করে। এ ছাড়া আমে থাকা বিশেষ এনজাইম শরীরের প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। আমে থাকা ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং ২৫ ধরনের ক্যারোটিনয়েডস শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং ত্বক ও চুলের খসখসে ভাব দূর করে। অন্যদিকে কাঁচা আমও শরীরের শক্তি বাড়াতে, লিভারের সুরক্ষায় এবং নতুন রক্ত তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তবে প্রশ্ন হলো, এক দিনে ঠিক কতটুকু আম খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত? পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ দৈনিক অনায়াসে মাঝারি আকারের দুটি আম খেতে পারেন। বিশেষ করে ফজলি আমে পুষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। তবে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের আম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। কারণ আমে থাকা প্রচুর পটাশিয়াম কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অনেকেরই ধারণা, আম খেলে মানুষ মোটা হয়ে যায়। এ বিষয়ে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ৭৯ থেকে ৮২ গ্রাম ক্যালোরি থাকে এবং এর সিংহভাগই পানি। আমে কোনো ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা লবণ নেই। তবে সারা দিনের ক্যালোরি চাহিদার বাইরে অতিরিক্ত আম খেলে এর বাড়তি শর্করা শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা হতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়া নিয়ে সমাজে নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে গবেষণা এবং চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুসারে, ডায়াবেটিস হলেই আম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সতর্কতার সঙ্গে অল্প পরিমাণে আম খেলে রক্তের সুগার মাত্রাতিরিক্ত বাড়ে না। একজন ডায়াবেটিস রোগী দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম আম খেতে পারেন, যা একটি ছোট আম বা মাঝারি আমের অর্ধেকের সমান। পুষ্টিবিদেরা পরামর্শ দেন, মূল খাবার খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর আম খাওয়া উচিত, কারণ ভরা পেটে আম খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
আম চিবিয়ে খাওয়ার চেয়ে আমের শরবত বা জুস করে খাওয়া অনেক বেশি ক্ষতিকর। কারণ শরবতে একাধিক আম ব্যবহার করা হয় এবং বাড়তি চিনি যোগ করা হয়, যা সুগারের মাত্রা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ডায়াবেটিস বা ওজনের সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পরিমিত আম খেলে কোনো রকম শারীরিক জটিলতা ছাড়াই এই মৌসুমি ফলের স্বাদ ও পুষ্টি উপভোগ করা সম্ভব।

