ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘাম ও দুর্গন্ধ থেকে মুক্তির সহজ উপায়

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৬:২২ এএম

তীব্র দাবদাহে শরীর ঘেমে যাওয়া এবং ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে কমবেশি সবাইকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কারো ক্ষেত্রে এই সমস্যা এতই বেশি হয় যে, হাত-পায়ের তালু বা বগলের নিচে মাত্রাতিরিক্ত ঘাম দৈনন্দিন জীবনকে অস্বস্তিকর করে তোলে। চিকিৎসকদের মতে, ঘাম হওয়া মূলত একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শরীর অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে নিজেকে শীতল রাখে। তবে অতিরিক্ত ঘামের কারণে অনেক সময় শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, যা শারীরিক দুর্বলতা ও তীব্র পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে।

মূলত আমাদের ত্বকে বাস করা কিছু ব্যাকটেরিয়া যখন ইকক্রাইন ও এপোক্রাইন গ্ল্যান্ড থেকে নির্গত ঘামকে এনজাইম দিয়ে ভেঙে ফেলে, তখনই ঘামে উৎকট গন্ধের সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া প্রপানয়িক এবং ভ্যালেরিক অ্যাসিডই মূলত এই অনাকাক্সিক্ষত দুর্গন্ধের জন্য দায়ী। শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে, বিশেষ করে বগলের নিচে এপোক্রাইন গ্ল্যান্ডের পরিমাণ বেশি থাকায় সেখানে দুর্গন্ধ হওয়ার প্রবণতাও অনেক বেশি থাকে।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। গরমে প্রয়োজনে দিনে দুবার হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করা উচিত, কারণ গরম পানি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে দারুণ কার্যকর। গোসলের সময় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার এবং শরীর পুরোপুরি শুকানোর পর ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করা যায়। এ ছাড়া নিয়মিত সুতি ও ভালোভাবে ধোয়া পরিষ্কার কাপড় পরিধান করা জরুরি, কারণ আগের দিনের ঘামযুক্ত বাসি কাপড়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া দ্রুত শরীরে পুনরায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।

প্রাকৃতিক উপায়ে ব্যাকটেরিয়া দূর করতে নিমের পানি এবং টি-ট্রি অয়েলের ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। ফুটন্ত গরম পানিতে কিছু নিমপাতা দিয়ে ২০ মিনিট রেখে, সেই পানি দিয়ে শরীর মুছে নিলে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়। একইভাবে, স্প্রে বোতলে পানির সঙ্গে মাত্র তিন ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে প্রতিদিন গোসলের আগে শরীরে ব্যবহার করলে ঘাম ও দুর্গন্ধ দুই-ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনেও এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শরীরকে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে এই সময়ে প্রচুর পানি পান করা এবং প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় শসা রাখা উচিত। অন্যদিকে, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এবং সালফার-সমৃদ্ধ সবজি যেমনÑ ব্রকলি, বাঁধাকপি ও ফুলকপি কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ এগুলো ঘাম ও গন্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

অনেকে ঘাম দূর করতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিপারসপির‌্যান্ট বা বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেন, যার নানাবিধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। অতিরিক্ত ঘাম চেপে রাখার ফলে ত্বকে ঘামাচি কিংবা ফাঙাল ইনফেকশনের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ঘাম বা দুর্গন্ধের সমস্যা অতিরিক্ত আকার ধারণ করলে কোনো রকম অবহেলা না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।