ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

জুলাই থেকে বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৬:২৬ এএম

সারা দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র শিক্ষক সংকট কাটাতে আগামী জুলাই মাস থেকেই বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গতি ফেরাতে এবং শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণে এই পদক্ষেপকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

গতকাল রোববার দুপুরে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রপ্রধান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের শুধু এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর বাইরে সরকারি স্কুল-কলেজগুলোতেও রয়েছে বিপুলসংখ্যক শূন্যপদ। দীর্ঘ কয়েক বছর নিয়োগ স্থবির থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, এমনকি কোথাও কোথাও মাত্র এক-দুজন শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠান চালাতে হচ্ছে। এই সংকটকে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “জুলাই থেকেই আমরা নতুন নিয়োগের কাজ শুরু করছি। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক সংকট দূর করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।”

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার ঘোষণা দেন তিনি। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে বা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত তদবিরে নিয়োগ পাওয়ার দিন শেষ। এখন থেকে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। বিশেষ করে দেশের বহু স্কুলে ইংরেজি, আইসিটি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকের যে তীব্র ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে এবার বিষয়ভিত্তিক নিয়োগে বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট ও ঝুলে থাকা পদোন্নতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক অবহেলার কারণে বছরের পর বছর নিয়োগ আটকে ছিল। ২০১৭ সাল থেকে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি বন্ধ হয়ে আছে। সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পদ বর্তমানে শূন্য। সরকার আদালতের রায়ের আলোকে দ্রুত এই মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে জুলাই থেকে প্রাথমিকেও নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে থাকা প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মামলাও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে।

শিক্ষা প্রশাসনে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘অধিদপ্তরে বসে দালালি করার দিন এখন আর নেই।’ বিগত সরকারের আমলে শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে অবসরে যাওয়া শিক্ষকরা কেউ তাদের কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাননি। মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

উচ্চশিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঢালাওভাবে কোনো স্কুল-কলেজ সরকারীকরণ করা হবে না। এ ছাড়া অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ে অযাচিতভাবে কোনো বিভাগ খোলা যাবে না, শুধু চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকেই গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ডিজিটাল মনিটরিং ও স্মার্ট ক্লাসরুম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।