ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে নিহত ১

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৬:৪৭ এএম

ঢাকার অদূরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নাঈম মোল্লা (১৬) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় মো. রবিন (১৬) ও তাজ (১৫) নামের আরও দুই কিশোর আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। আহত রবিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর তাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকায় চলচ্চিত্র অভিনেতা ডিপজলের ভাড়াটিয়া বাড়ির গলিতে তাজ ও রবিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের সময় নাঈম মোল্লা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে তাদের থামানোর চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয়রা এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের কিশোররা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত নাঈম ও রবিনকে উদ্ধার করে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নাঈম মারা যায়। পরে রবিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মৃত নাঈম মোল্লা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা পানির ট্যাংকি এলাকায় বসবাস করত এবং প্যান্ট তৈরির একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। আহত রবিন কুমিল্লার মেঘনা থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় বসবাস করে। অপরদিকে, তাজকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার কিশোরদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বিরোধ চলছিল, বিরোধে একপক্ষে ছিল তাজ ও অপরপক্ষে ছিল রবিন। রমজান মাসে তারাবি পড়াকে কেন্দ্র করে তাজ ও রবিন নামে দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরবর্তীতে কিছুদিন পর বুড়িগঙ্গায় নৌকা ভ্রমণে গেলে আবারও দুই গ্রুপের মধ্য ঝগড়া-বিবাদ হয়। রবিনের সঙ্গে নাঈমের বন্ধুত্ব সম্পর্ক থাকায় শুক্রবার রাতে নাইম তার কর্মস্থল থেকে কাজ শেষ করে আসার পরে রবিনকে দেখে তার কুশল বিনিময় করছিল। এ সময় তাজ তাদের একসঙ্গে দেখতে পেয়ে রবিনকে নাইম গ্রুপের সদস্য ভাবে। একপর্যায়ে তাজ রাগান্বিত হয়ে রবিন ও নাঈম দুইজনকেই দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। দুই পক্ষের ধস্তাধস্তিতে তাজও আহত হয়। মৃত নাঈম ওই বিরোধের পক্ষভুক্ত ছিল না, নাঈম ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতেই হামলার শিকার হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।