উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে আলোচনার আগে তেহরানের কাছে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চেয়েছে ওয়াশিংটন। গতকাল শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে এ বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। এদিকে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সমাহিত করার পরই প্রতিশোধ নেওয়ার বার্তা দিলেন ছেলে মুজতবা খামেনি। বাবার ‘পবিত্র রক্তের বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিশোধ আমাদের জাতির আকাক্সক্ষা।’
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাটি ছিল ‘ভুল’। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হলেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায়। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান দাবি করেছে, একদল ‘বিচ্যুত’ কট্টরপন্থি আলোচনাকে ভ-ুল করার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছিল। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, আমরা ভুল করেছি। এটি আমাদের ভুল ছিল। চলুন, আলোচনা চালিয়ে যাই।’
গত শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার ঘোষণা দিতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছে। রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা হয় আমাদের সেই বিবৃতি দেবে, না হলে তাদের জন্য ফল ভালো হবে না।’
ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের।
বাবার দাফনের পরই প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি মুজতবা খামেনির : ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সমাহিত করার পরই প্রতিশোধ নেওয়ার বার্তা দিলেন ছেলে মুজতবা খামেনি। বাবার ‘পবিত্র রক্তের বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিশোধ আমাদের জাতির আকাক্সক্ষা।’
গতকাল শনিবার আলজাজিরা লিখেছে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বার্তা দিয়েছেন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা।
এক দিন আগেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে হযরত ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলেছে সপ্তাহ ধরে। দাফনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের নেতা ও প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন মুজতবা খামেনি।
আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল গত মার্চে। কিন্তু সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলতে থাকায় তা স্থগিত করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর তার ছেলে মুজতবা খামেনিকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। একই হামলায় মুজতবাও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এর পর থেকে তাকে এ পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি বাবা ও স্ত্রীর জানাজায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

