উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আর্থিক পদক্ষেপে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনের সরকারি দলের সদস্যদের বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সদস্যকে তা দেওয়া হয়নি’। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করে জামায়াতের বলেন, ‘রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে সাধারণ মানুষ যেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।’ একই সঙ্গে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সম্প্রতি একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাস হয়েছে, যা দেশের স্বার্থ, বেকারত্ব নিরসন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু বিলটির ওপর বিস্তারিত আলোচনা ও কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বিরোধী দল বঞ্চিত হয়েছে’। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিরোধী দলের সদস্যদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘অন্যথায় সংসদে বসা জনগণের অর্থ ও সময়ের অপচয় ছাড়া আর কোনো কাজে আসবে না।’
সাম্প্রতিক বন্যা, ভূমিধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ‘এবারের বন্যায় চারটি বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রামে।’ ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে অর্থমন্ত্রী এ দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানী ড্রেনের ময়লা পানিতে তলিয়ে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। অনেক ক্ষেত্রে এ দূষিত পানি সুপেয় পানির লাইনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ঢাকাকে দেশের ‘চেহারা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিদেশি অতিথিরা রাজধানী দেখেই পুরো দেশ সম্পর্কে ধারণা নেন।’ তাই ঢাকাকে তিলোত্তমা ও দৃষ্টিনন্দন নগরীতে পরিণত করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা এবং সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রশংসা করে ড. শফিকুর রহমান প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সব ধর্মের শিক্ষার্থীর জন্য নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কারণ ধর্ম মানুষকে শালীনতা, দেশপ্রেম ও সততার শিক্ষা দেয়।’ এ লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্যতার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি অর্থের অপচয় এবং সরকারি প্রকল্পে ব্যক্তি বা রাজনীতিকদের নামফলক স্থাপনের সংস্কৃতিরও কঠোর সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনায় কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের নামে নামফলক বসানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। জনগণের টাকায় আত্মপ্রচারের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।’

