ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক তথ্যভান্ডার ও সারা দেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০২:৫৫ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি সঠিক ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গতকাল ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকটিতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান। এ সময় সারা দেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এর সম্প্রসারণের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময়ে ধাপে ধাপে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম. আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত-সহজ করার তাগিদ : প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত এবং সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চিকিৎসকরা যেন রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও আন্তরিক হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকেলে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অডিটরিয়ামে গিয়ে বৈঠক করলেন।

বৈঠকে এছাড়াও বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে গত ৫ মাসের অর্জন সর্ম্পকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তারা সেগুলো উপস্থাপন করেন। তারা জানান, বিগত সরকারগুলো স্বাস্থ্য খাত একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ দেখা যায় যে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে আসে। এ ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।