ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

সব জুলাই মামলা এক বছরেই শেষ করতে চায় প্রসিকিউশন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

জুলাই আন্দোলনকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার কার্যক্রম এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। গতকাল বৃহস্পতিবার জুলাই আন্দোলনে শহিদ পরিবারের সদস্য ও ১১-দলীয় ঐক্যের দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণের পর প্রধান কৌঁসুলি এসব কথা বলেন। স্মারকলিপিতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কে ‘ফ্যাসিস্ট শাসনামল’ বর্ণনা করে জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, এক বছরের মধ্যে জুলাইয়ের যত মামলা আছে, সব ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট (তদন্ত প্রতিবেদন) এবং জাজমেন্টের (বিচারের) মধ্য দিয়ে এগুলো আমরা নিষ্পত্তি করতে চাই। জুলাই-আগস্টের ঘটনা-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোই এখন প্রসিকিউশনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আসা ৫৯০টি অভিযোগকে একীভূত করে ১০৯টিতে আনা হয়েছে, যার মধ্যে সারা দেশের সব ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যার হাজার চারেক মামলার তালিকা নিয়ে কাজ চলছে। আলোচিত একরামুল হক হত্যাকা-ের তদন্ত প্রতিবেদন শিগগির জমা দেওয়া হবে।

প্রধান কৌঁসুলির কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেন শহিদ জাবের ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম এবং ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের ৬৮টি জেলার মধ্যে ৬১টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হলেও ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া ছাড়া বাকি জেলাগুলোতে এখনো তদন্ত সম্পন্ন হয়নি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

একইসঙ্গে ‘গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী’ অপরাধে সমর্থন বা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় স্মারকলিপিতে। এ ছাড়া ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি), উত্তরায় র‌্যাব-১ এর টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশনের (টিএফআই) সঙ্গে সম্পৃক্তদের তদন্তের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, আজকে এই স্মারকলিপিতে আপনারা যে দাবিগুলো তুলেছেন, আমার মনে হয় যে, এটা সারা বাংলাদেশের আপামর মানুষের দাবি।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান কৌঁসুলির দায়িত্ব নেন আমিনুল ইসলাম। এরপর প্রসিকিউশনের কাজের যে অগ্রগতি হয়েছে তা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা, রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকার ঘটনা এবং রাজনীতিক হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের, মাহবুবউল আলম হানিফ, জিয়াউল আহসান ও জুনাইদ আহমেদ পলকের মামলার কার্যক্রম একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই অপরাধে আসামিদের যেন দুবার বিচার না হয়, তা নিশ্চিতে তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। আগামী মাসের মধ্যে আরও তিন থেকে চারটি মামলার রায় পাওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন আমিনুল ইসলাম।

প্রধান কৌঁসুলি বলেন, যাত্রাবাড়ীর তাইম হত্যা মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ। পাশাপাশি আমির হোসেন আমুর মতো আসামিদের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা মামলার প্রতিবেদনও প্রস্তুত হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে নরসিংদী ও উত্তরা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে ডিসি-এসপি ও শহিদ পরিবারের উপস্থিতিতে গণশুনানি করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ২ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে গণশুনানি ও গণকবর পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানান তিনি।

রুয়ান্ডা ও যুগোস্লাভিয়ার উদাহরণ টেনে বিচারকদের সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রধান কৌঁসুলি। আমিনুল ইসলাম বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৩৯বি ধারা অনুযায়ী বিচারক নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেমোরেন্ডাম প্রস্তুত করতে পারেন, যার আবেদন এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেছেন। এর অংশ হিসেবে আগামী ১ আগস্ট র‌্যাবের টিএফআই বন্দিশালা এবং ৪ আগস্ট ডিজিএফআইয়ের জেআইসি পরিদর্শন করা হবে। এ ছাড়া আগামী ৬ থেকে ৮ আগস্ট খুলনার সুন্দরবন অঞ্চলে ‘গুমচর’ পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে বলে জানান প্রধান কৌঁসুলি।