চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আলট্রমিকসে’র তৈরি ‘ইকোগো হার্ট ফেইলিউর’ নামে একটি এআই অ্যালগরিদম প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে প্রায় ৯ মাস বা অন্তত ২৬৩ দিন আগেই একধরনের বিশেষ হার্ট ফেইলিউর বা হৃদক্রিয়া বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি শনাক্ত করতে সক্ষম। সাধারণ ইকোকারডিওগ্রাম টেস্টের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এই প্রযুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হৃদপি-ের সূক্ষ্ম অবস্থা পরিমাপ করতে পারে, যা চিকিৎসকদের পক্ষে খালি চোখে বা সনাতন পদ্ধতিতে তাৎক্ষণিকভাবে ধরা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
‘হার্ট ফেইলিউর উইথ প্রিজার্ভড ইজেকশন ফ্রাকশন’ (এইচএফপিইএফ) নামে এই হৃদরোগটি সাধারণত সাধারণ পরীক্ষায় সহজে ধরা পড়ে না। ফলে বিশে^র প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ রোগী জানতেও পারেন না যে তারা মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এবং নির্দিষ্ট কিছু জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রে প্রচলিত টেস্টগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে এই রোগটি অধরাই থেকে যায়। এআই প্রযুক্তির এই নতুন টুলটি মানুষের করা সাধারণ ভুলভ্রান্তি দূর করে একদম নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ হাজার রোগীর ওপর পাঁচ বছরের একটি মডেলে এই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে আগাম চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হওয়ায় অন্তত ৪৭৭ জন রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। শুধু জীবন বাঁচানোই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটি বড় ধরনের সাশ্রয় এনে দিচ্ছে। পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সামগ্রিক খরচ প্রায় ১৯ লাখ ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা রোগী ও হাসপাতাল উভয়ের জন্যই অত্যন্ত লাভজনক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বাধীন গবেষণার ফল এআই চালিত চিকিৎসা প্রযুক্তির ওপর চিকিৎসকদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং আগামী দিনে বিশ^জুড়ে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। সূত্র : ইয়াহু নিউজ।

