ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

কম্বোডিয়ায় নারী পাচার চক্রের হোতা গ্রেপ্তার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

কম্বোডিয়ায় বেশি বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পাচার, পাসপোর্ট ও অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকা-ে বাধ্য করার অভিযোগে চক্রের এক হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির (মিডিয়া) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ আবু তালেব জানান, সিআইডির মানবপাচার (টিএইচবি) ইউনিট গত মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. রুবেল (২৯)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ও ভুক্তভোগী নারী আর্থিক সংকটের কারণে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নেন। কিস্তি সংগ্রহের সুবাদে বাদী ওই এনজিওতেই কর্মরত ও বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত রুবেলের সঙ্গে পরিচিত হন। রুবেল ওই নারীকে বিদেশে গিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার প্রস্তাব দেন। কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে বেশি বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন তিনি।

ভুক্তভোগীর আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অভিযুক্ত রুবেল তাকে এনজিও থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিতে বলেন। ভুক্তভোগী নারী ঋণে ১ লাখ টাকা তুলে রুবেলকে দেন। তিনি পাসপোর্টও সংগ্রহ করেন। এরপর কম্বোডিয়ায় চাকরির ব্যবস্থা করার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে আরও টাকা নেন রুবেল। ভুক্তভোগী ধারদেনা করে বিভিন্ন সময়ে রুবেলের ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ টাকা জমা করেন। পাঠানোর কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে রুবেল মোট ৪ লাখ টাকা নেন।

এরপর ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ওই নারীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের অন্য সদস্যরা তার পাসপোর্ট এবং সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেন। তারা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকা-ে অংশ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। দেশে ফিরতে চাইলে প্রাণনাশ ও অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও মানবিক সংস্থার সহযোগিতায় গত ১ জুলাই ভুক্তভোগী নারী দেশে ফিরে আসেন। এরপর তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।