চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণকাজ আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। নির্মাণকাজ শুরু উপলক্ষে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চীনা প্রকল্পে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে। একই সঙ্গে এখানে ১ লাখেরও বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলটির মূল অবকাঠামো নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে আজ সকাল ১০টায় আনোয়ারা প্রকল্প এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠিত হবে।
সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও নিবিড় করার পাশাপাশি দেশের রপ্তানিমুখী উৎপাদন ভিত্তি সম্প্রসারণে বাংলাদেশের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ বিলম্বিত এই প্রকল্প ত্বরান্বিত করতে সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, অঞ্চলটি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্প প্রবৃদ্ধিকে অনেকটাই ত্বরান্বিত করতে পারে।
চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক আশা প্রকাশ করেন, চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য নির্ধারিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চল দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও মজবুত করবে। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি এই অঞ্চল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য ব্যাপক সুফল বয়ে আনবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চীন থেকে কাপড়, একসেসরিজ ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি করি, যা লিড টাইম (পণ্য সরবরাহের সময়) ও উৎপাদন ব্যয় দুটোই বাড়িয়ে দেয়। চীনা উৎপাদনকারীরা যদি চট্টগ্রামের এই অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে এসব উপকরণ তৈরি ও সরবরাহ করে, তাহলে আমাদের সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচাবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে। সেই সঙ্গে আমাদের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।’
কর্মকর্তারা জানান, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে উন্নত টেক্সটাইল, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের মতো খাতে চীনা বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি দেশীয় ও অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও যুক্ত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বেজার নির্বাহী সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটি ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
গত ২২-২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অফিসিয়াল চীন সফরের পর এই প্রকল্পে গতি আসে। ওই সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি চুক্তি সই হয়। ২৫ জুন অর্থনৈতিক অঞ্চলটির উন্নয়নের জন্য বেজা চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) সঙ্গে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময় করে।
এই সফরের পর রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, দীর্ঘ বিলম্বিত এই প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে; পাশাপাশি নতুন সরকারের মেয়াদের প্রথম চার মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রায় সব নথিপত্রের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি এই অঞ্চলে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বেইজিং ও ডালিয়ানে প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে চীনা বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত, সিইআইজেডের এই অগ্রগতি তারই সংকেত।

