বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো ও অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে বন্ডের সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন বাধ্যতামূলক করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান।
বন্ডের কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন করার ক্ষেত্রে প্রতিটি সেবার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে পরামর্শ দেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাক্সিক্ষত সেবা দিতে ব্যর্থ হলে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। অন্যদিকে বন্ড সুবিধার আওতায় বিদেশ থেকে আনা মাল বাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আমদানিকারকের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দেন আব্দুর রহমান। একই সঙ্গে যেসব কনটেইনার অনেক দিন ধরে বন্দরে পড়ে আছে, সেগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দ্রুত নিলামে বিক্রি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস ও ভ্যাট এবং আয়কর অনুবিভাগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা গতকাল বৃহস্পতিবার করা হয়েছে। সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে পৃথকভাবে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
কাস্টমস ও ভ্যাট অনুবিভাগের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি তুলে ধরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের মূল ফোকাস হতে হবে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নিশ্চিত করে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত পরিমাণ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আমদানি বা রপ্তানিকারকের বিন লক না করে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে রক্ষিত অতীত রেকর্ডের ভিত্তিতে রাজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তিনি পরামর্শ দেন। অহেতুক বিন লক করে সৎ ও কমপ্লায়েন্ট আমদানি-রপ্তানিকারকদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। প্রতিটি কাস্টম হাউস ও গোয়েন্দা দপ্তরকে আমদানি-রপ্তানিকারকদের বিন কি কারণে লক করা হয়েছে এবং গৃহীত প্রতিটি কার্যক্রম থেকে কী পরিমাণ অতিরিক্ত কর আদায় হয়েছে, প্রতিটি মাসিক রাজস্ব সভায় এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
ভ্যাটের আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করে আইনানুগভাবে প্রযোজ্য কর আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের আদায়ের গ্রোথ বা প্রবৃদ্ধির ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি পরামর্শ দেন। যারা সৎভাবে নিয়মকানুন মেনে ভ্যাট প্রদান করেন, তাদের ওপর অহেতুক বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে যারা মোটেও ভ্যাট পরিশোধ করেন না, তাদের ভ্যাট নেটে আনতে হবে। যারা ভ্যাট ফাঁকি দেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে ভ্যাট আদায় বাড়াতে হবে। ভ্যাটের আওতা বাড়াতে আইন অনুযায়ী যাদের ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, তাদের সবার ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করার জন্য সভায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো ও অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের মতো আগামী এক মাসের মধ্যে বন্ডের সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বন্ডের কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন করার ক্ষেত্রে প্রতিটি সেবার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে পরামর্শ দেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাক্সিক্ষত সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরও নির্দেশ দেন, বন্ড সুবিধার আওতায় আনা মালামাল বাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করা যাবে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে রাজস্ব বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দেন তিনি।
বন্ডের অপব্যবহার রোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কমিশনারদের কাছে জানতে চান এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় না দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। বন্ড অডিট কার্যক্রম থেকে অর্জিত ফলাফল সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিটি রাজস্ব সভায় উপস্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
কাস্টম হাউসগুলোতে নিলাম কার্যক্রম জোরদার করে কনটেইনার জট কমাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যেসব কনটেইনার অনেক দিন ধরে বন্দরে পড়ে আছে, সেগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দ্রুত নিলামে বিক্রি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আয়কর অনুবিভাগের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অংশ নিয়ে করদাতারা যাতে কল সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিক প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন, সে জন্য সব কমিশনারেটে ই-রিটার্ন দাখিলে সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের পরামর্শ দেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ই-টিন ও ইটিডিএস সিস্টেমের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে ই-টিন সিস্টেমে থাকা তথ্যানুসারে ইটিডিএস সিস্টেমে করদাতার তথ্য ও অধিক্ষেত্র প্রতিনিয়ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। তিনি বকেয়া কর আদায় বাড়ানোর জন্য বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বলেন।
টিআইএন থাকা সত্ত্বেও যেসব করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদের রিটার্ন দাখিলের জন্য নোটিশ করতে হবে। তাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্য সরেজমিনে তদন্ত করতে হবে। আইন অনুযায়ী আয়কর আরোপ করে তা আদায় করার জন্য আয়কর আইন অনুযায়ী সব কার্যক্রম গ্রহণ করে প্রতি মাসের রাজস্ব সভায় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রতিটি কর অঞ্চলকে গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে কর ফাঁকি উদঘাটন করার ওপর জোর দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।