ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

চট্টগ্রামের ৭৫ শতাংশের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

জালালউদ্দিন সাগর, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৬:৩৪ এএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৪৯১টিই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে নিরাপত্তা বাহিনী। অর্থাৎ ভোটকেন্দ্রগুলোর ৭৫ শতাংশের বেশিই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪৬১ এবং জেলায় ১ হাজার ৩০টি। পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে ‘রেড’, ‘ইয়েলো’ ও ‘গ্রিন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ‘রেড’, ঝুঁকিপূর্ণকে ‘ইয়েলো’ এবং ঝুঁকি নেই এমন কেন্দ্রগুলোকে ‘গ্রিন’ আইকনে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র অনুসারে, এবার রেড চিহ্নিত ভোটকেন্দ্র ৬৫৪টি। এর মধ্যে নগরীতে ৩১০টি এবং জেলায় ৩৪৪টি। ইয়েলো চিহ্নিত ভোটকেন্দ্র ৮৩৭টিÑ নগরীতে ১৫১টি ও জেলায় ৬৮৬টি। গ্রিন চিহ্নিত ভোটকেন্দ্র ৪৭৪টি। এর মধ্যে নগরীতে ১৪৬ ও জেলায় ৩২৮টি।

নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরামর্শ অনুসারে, ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র আমলে নিয়ে ভোটারদের জন্য নিরাপত্তাবলয় তৈরির পরিকল্পনা করছে নগর ও জেলা পুলিশ।

নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, এর আগের নির্বাচনগুলোতে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বুথের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৩৮৭। এবার ভোটগ্রহণে মাঠে কাজ করবেন ৪৩ হাজার ১০২ জন কর্মকর্তা। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসব কর্মকর্তাকে বাছাই করা হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার অন্যতম কারণ দলীয় কোন্দল এবং কেন্দ্র দখল করে জয়ী হওয়ার চেষ্টা। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রভাবকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে নিরাপত্তাবলয় তৈরির পরিকল্পনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর বাইরে গণঅভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র এবং নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দলগুলো এই নির্বাচনের জন্য বড় ঝুঁকি বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে লুট হওয়া এসব অস্ত্র শতভাগ উদ্ধার করতে না পারলে নির্বাচনি পরিবেশ বিঘিœত হতে পারে।

প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে : চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া), চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক), চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া) ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)।

জানতে চাইলে অপরাধ বিশেষজ্ঞ এমদাদুল হক বলেন, অনেক প্রার্থী আছেন যারা সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। সেসব সন্ত্রাসীকে দিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হতে পারে। নির্বাচন যাতে কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয় সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো সক্রিয় হতে পারেনি। যেকোনো বিষয়ে তাদের সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হয়। নির্বাচনে পুলিশ যদি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় না হয় তাহলে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেন, প্রার্থীর অবস্থান, রাজনৈতিক এবং স্থানীয় প্রভাবসহ বেশকিছু বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় এনে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তাবলয় তৈরি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেসব ভোটকেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব কেন্দ্রের চারপাশে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি আনসার, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সক্রিয় অবস্থানে থাকবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কী পরিমাণ ফোর্স থাকবেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এত আগে এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। আরও সময় যাক, পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফোর্স মোতায়েন করা হবে।