ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আকাক্সিক্ষত ভোটে উৎসবের আমেজ

জালালউদ্দিন সাগর, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৪:৪৫ এএম

সকল জল্পনা-কল্পনা আর সন্দেহের অবসান ঘটিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। এজন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের এক হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের। প্রতিটি কেন্দ্রে এরই মধ্যে পাঠানো হয়েছে ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি উপকরণ। মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান। তাদের অভিমত, এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে আলাদা ও উৎসবমুখর। কোনো প্রকার দুর্ঘটনা না ঘটলে স্বস্তিতেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন ভোটাররা।

নির্বাচন কমিশন কার্যালয় চট্টগ্রামের তথ্যসূত্র বলছে, চট্টগ্রাম নগর ও জেলা মিলিয়ে ১৬টি আসনে এবার ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন। নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন। হিজড়া আছেন ৭০ জন। এবার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার। ভোটকক্ষ ১২ হাজার ৬০১টি।

নির্বাচনি মাঠে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব। এ ছাড়াও আছে উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার সদস্যরা। আর পুলিশ তো রয়েছেই।

নগর ও জেলা পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১১২ জন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সাত হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিন ও জেলা পুলিশ। ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন করা হবে চারজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রে (ঝুঁকি নেই এমন কেন্দ্র) থাকবেন তিনজন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাবের সদস্যরা। ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোতে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহারসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সিএমপিতে সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র মিলে থানা পুলিশের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হবে দুই হাজার ১৩১ জন। এর মধ্যে সাধারণ কেন্দ্রে ৮৯১ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে এক হাজার ২৪০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশের আওতাধীন এক হাজার ৩৫৮টি ভোটকেন্দ্রে চার হাজার ৪১৯ জন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার কথা রয়েছে জেলা পুলিশের। এর মধ্যে সাধারণ কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে তিন হাজার ৩৯ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে এক হাজার ৩৮০ জন। একই সঙ্গে মাঠে থাকার কথা রয়েছে সোয়াত সদস্যদেরও।

নির্বাচনের আগের দিন গতকাল বুধবার নগরী ছিল তুলনামূলক শান্ত। পথেঘাটে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। গণপরিবহন চলাচল ছিল সীমিত। সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যাই বেশি ছিল। শহরজুড়ে লক্ষ করা যায় ছুটির আমেজ।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনে ভোট দিতে কয়েক লাখ মানুষ নগরী ছাড়লেও জেলার গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে ভোটারের উপস্থিতি। তথ্যসূত্র বলছে, উৎসবমুখর এই  নির্বাচনে অংশ নিতে কোটি কোটি মানুষ এবার গ্রামমুখী হয়েছেন। যে কারণে নগরীর আবাসিক এলাকাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সিএমপি।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দীর্ঘ সময় পর একটি উৎসবমুখর ভোটের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। যে কারণে গ্রামগঞ্জে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হচ্ছে সেই বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণের নির্বাচন, যেখানে আমরা, আপনারা এবং আমাদের সন্তানরা নিরাপদ থাকবে। এই নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের পথে একটি ঐতিহাসিক ধাপ। যোগ করেন তিনি।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, ভোট উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা, পরিবহন ও তদারকিতে থাকবে বাড়তি সতর্কতা।