ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্পের-২ (এসএমইডিপি-২) অব্যবহৃত অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করে অর্জিত ২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি মুনাফা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিনিয়োগ কমিটির সদস্যদের জন্য সুইজারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব রুখসানা রহমানের সরকারি অনুমোদন (জিও) ইস্যুর অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, এসএমইডিপি-২ অব্যবহৃত অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করে অর্জিত মুনাফা থেকে ২৬ কোটি ৭৬ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৪ টাকা ১৯ পয়সা সরকারি কোষাগারে জমা এবং অতিরিক্ত ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেওয়াÑ এই আর্থিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘এক্সপোজার ভিজিট’-এ অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন গভর্নর, যা চলতি বছরের ৭ থেকে ১৩ মার্চ মেয়াদে সুইজারল্যান্ডে ভ্রমণের যুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো পত্রে জানানো হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ’২৪ সালের ১২ ডিসেম্বরের নির্দেশনা অনুযায়ী এসএমইডিপি-২ প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ বিনিয়োগ এবং তার তদারকির জন্য একটি বিনিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিতে অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মনোনীত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইডিপি-২ প্রকল্পের ছয়জন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ডেপুটি গভর্নর-১-এর সভাপতিত্বে পরিচালিত এ কমিটি নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে প্রকল্পের অব্যবহৃত তহবিল সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করে এই মুনাফা অর্জন করে।
চিঠি অনুযায়ী, বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা থেকে ২৬ কোটি ৭৬ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৪ দশমিক ১৯ টাকা চালানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট হিসাবে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রকল্পভিত্তিক তহবিল ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ কমিটি শুধু অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি, বরং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সরাসরি রাজস্ব সংযোজনেও ভূমিকা রেখেছে। সরকারি প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ ব্যবস্থাপনায় এই ধরনের বিনিয়োগ ও মুনাফা অর্জন আর্থিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিনিয়োগ কমিটির এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গভর্নর অর্জিত মুনাফার একটি সংরক্ষিত অংশ ব্যবহার করে কমিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বৈদেশিক এক্সপোজার ভিজিটে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ সরকারি বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব বাজেট থেকে নয়, বরং বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফার একটি অংশ থেকেই এ ব্যয় নির্বাহ করা হবে। এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বৈদেশিক কর্মশালার পুরো ব্যয় বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফার সংরক্ষিত অংশ থেকে বহন করা হবে বিধায় বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের কোনো ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকবে না।
আগামী ৭ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য কর্মসূচিটি আয়োজন করছে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিএমসি লিমিটেড, লন্ডন, যুক্তরাজ্য। এর শিরোনাম, ‘গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং ভিজিট অন এসএমই ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম’। শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা ও তুলনামূলক মূল্যায়নই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এসএমইডিপি-২ প্রকল্প যেহেতু ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ উন্নয়নকেন্দ্রিক, তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের আন্তর্জাতিক পর্যালোচনামূলক ভিজিটকে প্রকল্প সম্পর্কিত সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, এই এক্সপোজার ভিজিটে অংশগ্রহণের জন্য বিনিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে অর্থ বিভাগ থেকে মনোনীত প্রতিনিধির সরকারি অনুমোদন, অর্থাৎ জিও ইস্যু করা আবশ্যক। এর পরিপ্রেক্ষিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব রুখসানা রহমানকে জিও ইস্যুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিনিয়োগ কমিটি সংশ্লিষ্ট অর্থ বিভাগের মনোনীত প্রতিনিধি এই এক্সপোজার ভিজিটে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অর্থাৎ, অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন অপরিহার্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রশাসনিকভাবে অনুরোধ জানালেও চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, এসএমইডিপি-২ প্রকল্পের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে চিঠিতে যে আর্থিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে, তা প্রকল্প পরিচালনা ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক নজির হিসেবে দেখানো হয়েছে। সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ সাধারণত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। সেই বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া এবং অংশবিশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে দেওয়াÑ উভয় দিকেই আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিফলিত হয়েছে। এর পাশাপাশি একই মুনাফার একটি সংরক্ষিত অংশ ব্যবহার করে সক্ষমতা উন্নয়নমূলক আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের উদ্যোগকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এসএমইডিপি-২ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক ‘বেঞ্চমার্কিং’ ভিজিট আয়োজনের উদ্যোগকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ উন্নয়ন, উদ্ভাবন সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে দেশীয় নীতি ও প্রক্রিয়া পরিমার্জনÑ এসব ক্ষেত্রেই এ ধরনের সফর থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন