ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ডোবায় পড়ে হাতিশাবকের মৃত্যু

তিন দিন ধরে মৃত সন্তানের পাশে হাতি দম্পতি

বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০১:৩২ এএম

প্রকৃতিতে মাতৃত্ব আর শোকের যে কোনো সীমানা নেই, তার এক করুণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি। একটি ঘোলা জলের ডোবায় পড়ে আছে ৬-৭ মাস বয়সি এক হাতিশাবকের মরদেহ। সন্তানের মায়া ত্যাগ করতে না পেরে গত তিন দিন ধরে সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে এক হাতি দম্পতি। এমন শোকাতর দৃশ্য দেখে অশ্রুসিক্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার থেকে একটি টিলার পাদদেশের ডোবায় হাতিশাবকটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মা হাতিটি অর্ধেক শরীর পানিতে ডুবিয়ে সন্তানের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আছে, আর কিছুটা দূরে পাহারায় রয়েছে পুরুষ হাতিটি।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত তিন দিনে একবারের জন্যও সন্তানকে একা ফেলে যায়নি এই দম্পতি। পুরুষ হাতিটি রাতে খাবারের সন্ধানে জঙ্গলে গেলেও দ্রুত ফিরে আসছে। মা হাতিটিও সামান্য খাবার খেয়েই পুনরায় মৃত সন্তানের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন তঞ্চঙ্গ্যার মতে, ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থতার কারণে মায়ের দুধ পান করতে না পেরে শাবকটি মারা গেছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মনিরুল ইসলাম জানান, এলাকাটি মিয়ানমারে যাতায়াতের একটি নিয়মিত হাতির রুট। হয়তো চলাচলের সময় পাহাড় থেকে পড়ে বা অসুস্থ হয়ে শাবকটি মারা গেছে। তিনি বলেন, ‘শোকে কাতর মা হাতিটি কোনোভাবেই বাচ্চার মরদেহ ছেড়ে যেতে চাইছে না। আমরা তাদের বিরক্ত করতে চাই না। তাদের মানসিক অভিঘাত কিছুটা কমলে এবং তারা স্থান ত্যাগ করলে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করব।’

নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, হাতি দুটি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় আছে। সাধারণত হাতিরা তাদের দলের সদস্য বা সন্তানের মৃত্যুতে দীর্ঘ সময় শোক পালন করে। বনের গভীরে এই নীরব শোকের দৃশ্য দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করলেও বন বিভাগ থেকে সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মরদেহটি উদ্ধার করার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে যে এটি পাহাড় থেকে পড়ে মারা গেছে, নাকি অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল। তবে আপাতত বনের এই বিশাল দুই প্রাণীর নীরব কান্না ছুঁয়ে গেছে সবাইকে।