ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হামাসকে অস্ত্র ছাড়ার আলটিমেটাম ট্রাম্পের, সময়সীমা বেঁধে দিল

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৪:০১ এএম

ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত কথিত ‘গাজা শান্তি বোর্ড’ সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে অস্ত্রসমর্পণের জন্য চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এই বোর্ড কাজ করছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে বোর্ডের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ কায়রোতে হামাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। সূত্রগুলো জানায়, প্রস্তাবে কিছু ছোটখাটো পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও মূল কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে হামাস এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। কূটনীতিকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছাড়া সংগঠনটি এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার সম্ভাবনা কম। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশÑ মিশর, কাতার ও তুরস্ক এই প্রস্তাব নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নয়। তাদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতিতে একটি কার্যকর সমঝোতা অর্জন কঠিন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক বাস্তবতাও এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনি বছরের কারণে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকতে পারেন। তার জোটের অনেক অংশীদারই গাজায় স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে। এরই মধ্যে গাজায় আবারও সহিংসতা বেড়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালিয়েছে। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।

এই হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের সামরিক সদস্যরা বলে ধারণা করা হলেও, এতে সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনাই সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে কূটনৈতিক চাপ, অন্যদিকে চলমান সংঘাতÑ এই দুইয়ের মাঝে গাজা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। অস্ত্রসমর্পণ নিয়ে আলোচনা সফল না হলে সহিংসতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।