বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে প্রশাসনিক দপ্তর, অর্থ দপ্তর, পরিকল্পনা দপ্তর, জনসংযোগ দপ্তর ও ডিনদের কার্যালয়সহ একাধিক দপ্তর তালাবদ্ধ করা হয়। এ সময় শিক্ষকদের বাধার মুখে কর্মকর্তারা নিজ নিজ কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এদিকে পূর্বঘোষণার আলোকে গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সাতজন ডিন পদত্যাগ করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের নেতৃত্বদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সাতজন ডিন পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। উপাচার্য স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
গতকাল সকাল ৯টায় পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবন-১-এ অবস্থান নেন। এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর সকাল ১০টার দিকে তাদের একটি অংশ রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান। এ সময় তারা রেজিস্ট্রারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় উপাচার্যের সঙ্গে অসহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে শিক্ষকদের চাপের মুখে রেজিস্ট্রার তার কার্যালয় ত্যাগ করেন। পরে রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, ‘আমরা কোনো কর্মকর্তার দপ্তরে সরাসরি তালা ঝুলাইনি। তবে আমাদের নির্দেশনায় প্রশাসনিক দপ্তরগুলো তালাবদ্ধ করা হয়েছে। কর্মচারীরা বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়েছেন, কারণ তারা এই আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।’
আন্দোলনকারী শিক্ষক এবং ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাকে আমরা প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করব না। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা পদত্যাগ করছেন। পদোন্নতি বোর্ড বসানোর ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাই আমরা প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘সব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয়। কেউ আন্দোলন করলে ব্যক্তিগতভাবে কর্মবিরতি পালন করতে পারে। তবে অন্যের কাজে বাধা দেওয়া ও কাউকে কাজ থেকে বিরত রাখা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। এ ধরনের কর্মকা- থেকে বিরত না থাকলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

