দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশু মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৩। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এদিকে বৃষ্টির মৌসুম আসন্ন। এ সময়টায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে হাসপাতালগুলোকে সামনে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯১ জনের প্রাণ গেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে প্রাণহানির সংখ্যা ৫২২। সবমিলিয়ে নিশ্চিত হাম ও সন্দেহভাজন হাম মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩। এ ছাড়া, ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৬২০ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৭৯১। একই সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৬৩ হাজার ১৩৪ এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়েছে ৫৮ হাজার ৯৬৪ জন।
চিকিৎসকরা বলছেন, সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি থাকতে দেখা যাচ্ছে। তবে তারা এটাও বলছেন যে, বিশেষ উদ্যোগ নিলেই হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানো সম্ভব। তারা বলছেন, সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালে রোগী আসছে, ভর্তিও হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে হামের মতো সংক্রামক রোগের জন্য নির্ধারিত শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অনেক হাসপাতালের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। তারা বলছেন, হামের বিষয়ে কোন হাসপাতালে কত রোগী আছে, কত শয্যা খালি, আইসিইউ খালি আছে কি নাÑ এসব তথ্য সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রকাশ করে না। অথচ কোভিড-১৯ মহামারির সময় এসব তথ্য দেওয়া হতো, যা রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য দরকার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক আবু আহমেদ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের হামের রোগীর তথ্য আমরা নিয়মিত প্রকাশ করছি। প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জন ও সিটি করপোরেশনগুলোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে আমরা রোগীর তথ্য পাই। তবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য পৃথকভাবে নেই।

