ঢাকা রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬

দেরিতে মৌসুমি বায়ু আসায় কমল বর্ষার সময়কাল

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম

অবশেষে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টেকনাফ এলাকা দিয়ে প্রবেশ করেছে বৃষ্টির মৌসুমি বায়ু। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় এক সপ্তাহ দেরিতে গতকাল শনিবার এলো এই বায়ু। দেশে সাধারণত ৩১ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে। এবার তা বেশ দেরিতে এলো। অথচ গত বছর ২৫ মের মধ্যেই এসে গিয়েছিল। তবে মৌসুমি বায়ু আসা মানেই যে দেশজুড়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে, এমন নয়। বরং আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে দিনভর তাপপ্রবাহ ও ভাপসা গরমের পর গতকাল শনিবার বিকেলে একপশলা বৃষ্টিতে ভিজেছেন রাজধানীবাসী। এতে কয়েক দিনের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তির ভাব লক্ষ করা গেছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কম হওয়ায় গরমের তীব্রতা পুরোপুরি কাটেনি।

নতুন মৌসুমি বায়ুকে এখন লড়তে হবে সক্রিয় পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, এই দুই বায়ুপ্রবাহের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি কিছুটা কমে যেতে পারে। তিনি জানান, বিশেষ করে ৯ থেকে ১০ জুন বৃষ্টি কম হতে পারে। সারা দেশে মৌসুমি বায়ু ছড়িয়ে পড়তে চলতি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় বায়ুপ্রবাহ এল নিনোর সক্রিয়তার কারণেই এবার বৃষ্টি কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশে মোট বৃষ্টির বেশির ভাগ হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হয় জুনে।

একপশলা বৃষ্টিতে রাজধানীতে স্বস্তি: দিনভর তাপপ্রবাহ ও ভাপসা গরমের পর গতকাল শনিবার বিকেলে একপশলা বৃষ্টিতে ভিজেছেন রাজধানীবাসী। এতে কয়েক দিনের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তির ভাব লক্ষ করা গেছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কম হওয়ায় গরমের তীব্রতা পুরোপুরি কাটেনি।

ধানমন্ডি, কলাবাগান, গ্রিন রোড, ফার্মগেট, রাজাবাজার, কাঁঠালবাগান, পান্থপথ, বাংলামটর, শাহবাগ, কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকেই বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার সঙ্গেও বজ্রপাতও হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কক্সবাজার উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর পুনরায় ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।