ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

ফ্যাসিবাদ ও একাত্তরের পরাজিতরা এক হয়ে ষড়যন্ত্রে : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৫:১৯ এএম

দেশপ্রেমিক সরকারকে উচ্ছেদ করতে ফ্যাসিবাদী শক্তি ও একাত্তরের পরাজিতরা এক হয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি বলেন, এরা এখন নানা বিক্ষোভ ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আট দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ দিনে গতকাল রোববার জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এখন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। শহিদ জিয়া যখন বেঁচে ছিলেন, তখন দেশের মানুষ তার শাসনকাল দেখেছেন। তার সময়ে দুর্ভিক্ষের দেশ এক সমৃদ্ধ ও সম্মানের দেশে পরিণত হয়েছিল। অথচ অন্যদের শাসনামলে আমরা ভিন্ন চিত্র দেখেছি; গত ১৮ বছরে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকে গুম এবং শত শত নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।

জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে আহমেদ আজম খান বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের মানুষকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের প্রথম কাজ হলো দেশকে ভালোবাসা। আমরা কী নামে যুদ্ধ করবÑ এর নাম যে ‘মুক্তিযুদ্ধ’, তা সর্বসম্মতিতে জিয়াউর রহমানই নির্ধারণ করেছিলেন।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক কর্মীকে মনে রাখতে হবে তিনি শহিদ জিয়ার দলের কর্মী। বর্তমান সুসময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বাধিক সহায়তা করতে হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তার কার্যালয়ে মাত্র ১০০ টাকার মধ্যে দুপুরের খাবার খান। কর্মচারীরাও এতে ভীষণ সন্তুষ্ট। আমাদের সুদৃঢ় অর্থনীতির ওপর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। মন্ত্রী আহমেদ আজম বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যাতে তারা কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রেখে পালিয়ে গেছে, আর সেই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বিএনপি সরকার।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল পুনর্গঠনের মাধ্যমে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করেছে।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানান, প্রায় ছয় হাজার অমুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা ধ্বংস করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সেই প্রত্যাশা পুনর্গঠনে বর্তমান সরকার কাজ করছে।

আলোচনা সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন। তারা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে অতীতের মতোই ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।