বিদ্যুতের সরবরাহ লাইনে ত্রুটির কারণে নারায়ণগঞ্জে গতকাল রোববার সকাল থেকে শহর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। এতে তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরবরাহকারী একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইনে ত্রুটির কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
কখন নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হতে পারে তা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ দক্ষিণের প্রধান প্রকৌশলী কামাল হোসেন।
ডিপিডিসি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর হাসনাবাদ গ্রিড উপকেন্দ্রের একটি তার ছিঁড়ে পাশের আরেকটি সার্কিটের তারের ওপর পড়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা বিঘিœত হয়। এ কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরসহ জেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া, উকিলপাড়া, গলাটিপা, কালিরবাজার, আমলাপাড়া, টানবাজার, মাসদাইর, জামতলা, বালুর মাঠ, কাশীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। এতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হয়।
ব্যবসায়ী সিজান আহমেদ বলেন, সকাল ১০টায় মার্কেটে গিয়ে দেখি বিদ্যুৎ নেই। তীব্র গরমে খুবই খারাপ অবস্থা। পরে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে এসেছি ১টায়। এখন বাসায় এসে দেখি এখানেও বিদ্যুৎ নেই।
কাশীপুরের বাসিন্দা রেহানা পারভীন বলেন, আমাদের বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নেই। রান্না চলে ইলেকট্রিক চুলাতে। গতকাল সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় খাবার কিনে খেতে হয়েছে।
পূর্ব কোনো ঘোষণা না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান এ এলাকার আরেক বাসিন্দা কুলসুম বেগম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আসতে দেরি হবে এমন কোনো মাইকিং আমরা শুনিনি। যার কারণে রেগুলার লোডশেডিং ভেবে পানি মজুত বা জমিয়ে রাখিনি। এখন তো বিদ্যুৎ দেরিতে এলে পানির সংকটেও পড়তে হবে।
ডিপিডিসির প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, শীতলক্ষ্যা ১৩২ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রটি থেকে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো, তা বন্ধ রয়েছে। এ কেন্দ্রটি পিজিসিবির আওতাধীন। তারা যখন ত্রুটি মেরামত করবে, তখন আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।

