ঢাকা রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

‘একটি সিস্টেম ডেভেলপ করেছি সময়ে আরও নিখুঁত হবে’

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

উৎপাদন নিয়ন্ত্রক হিসেবে আগে শুধু প্রাথমিকের বইয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এখন সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) হিসেবে মাধ্যমিক স্তরও দেখতে হবে। দায়িত্ব বাড়ায় কোনো চাপ বোধ করছেন কি?

আপনাকে ধন্যবাদ। এটা সত্যি, আগে উৎপাদন নিয়ন্ত্রক হিসেবে আমি শুধু প্রাইমারির বই দেখাশোনা করেছি। এখন সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) হিসেবে আমাকে মাধ্যমিকের বইও দেখাশোনা করতে হবে। তবে এতে আমি কোনো চাপ বোধ করছি না। কারণ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উইংয়ে (শাখা) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আমার অর্গানিক সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই গত বছর কাজ খুব দ্রুত হয়েছে। এবারও ভালো শুরু হয়েছে। তাই বইয়ের সংখ্যা বাড়লেও মেথডোলজিক্যালি আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়েই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে পারব।

বিগত দুই বছরের তুলনায় বর্তমানে বই বিতরণ পরিস্থিতিতে কোনো পার্থক্য দেখছেন?

অবশ্যই। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত প্রফেশনাল ও কমিটেড। ২০২১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পাবলিক পরীক্ষার পরিবেশ নকলমুক্ত করতে আপনারা উনার পরিশ্রম দেখেছেন। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন পয়লা জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্পন্ন বই পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যানও অত্যন্ত মেধাবী ও অভিজ্ঞ। মন্ত্রীর নির্দেশনা ও চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিগত দুই বছরের তুলনায় এবার আমরা কৌশলগতভাবে অনেকটা এগিয়ে রয়েছি।

প্রতিবছরই বই ছাপার মৌসুমে সিন্ডিকেশনের অভিযোগ শোনা যায়। অভিযোগ নিয়ে কী ভাবছেন?

সিন্ডিকেট আমি বুঝি না। পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী দরপত্রে আমার দরকার কমপিটিটিভ (প্রতিযোগিতামূলক) প্রাইস (দাম)। যে প্রাইস অনুযায়ী আমি শিক্ষার্থীদের হাতে গুণগত মানসম্পন্ন বই তুলে দিতে পারব। সিন্ডিকেট নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমার একটি দাপ্তরিক পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিতে যারা সর্বনি¤œ দরদাতা হবে তারা কাজ পাবে, তাদের নোয়া দিব, তারা চুক্তি করবে, সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে বই দিবে।

দরপত্র মূল্যায়নে এসএলটি অন্তর্ভুক্তি কেন?

অনেক টেন্ডারার কাজ পাওয়ার জন্য অতিমাত্রায় কম দর দেয়। এজন্য ২০২৫ পিপিআর অনুযায়ী এসএলটি সিস্টেম অতিমাত্রায় কম দরের টেন্ডারকে বাতিল করে দেয়। এটা আমাদের জন্য স্বস্তির। এসএলটি সিস্টেম আমাকে বলে দিচ্ছে, এত নি¤œ দরে সে কাজ করতে পারবে না। সুতরাং সিস্টেম আমাকে বলছে, তুমি ওপরে (দর) চলে যাও, এখানে তো আমার কিছু করার নেই। সরকার প্রতিযোগিতামূলক দামে গুণগত মানের বই কিনতে চায়। এই কমপিটিটিভ দামের মধ্যে যে সর্বনি¤œ হবে, সে কাজ পাবে।

বইয়ের প্রকৃত চাহিদা নির্ণয়ে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন?

বইয়ের প্রকৃত চাহিদা নির্ণয়ের বিষয়টি আমরা একটি সিস্টেমে নিয়ে এসেছি। আমাদের একটি অ্যাপস আছে। জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা ওই অ্যাপসে তাদের চাহিদা ইনপুট দেয়। পরে আমরা সেই চাহিদা ক্রস চেক করি। এই সিস্টেমে এবার আমরা কোটির বেশি বই অতিরিক্ত চাহিদা বলে শনাক্ত করতে পেরেছি।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার দরপত্র নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। বলা হচ্ছে সংখ্যা কমিয়ে লট বড় করা হয়েছে। অনেক প্রেস টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে না। এ বিষয়ে আপনার মতামতÑ 

এটা পারচেজ কমিটির নির্দেশনা। লটের সংখ্যা বেশি হলে পারচেজ কমিটিতে প্রশ্ন ওঠে। পারচেজ কমিটির উদ্বেগকে সম্মান জানিয়ে সদ্য সাবেক চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় লটের সংখ্যা কমানো হয়েছে। ছোট প্রেস যাতে অংশ নিতে পারে সেজন্য স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স কমানো হয়েছে।

বই বিতরণ প্রক্রিয়ায় একটি পরিকল্পনামাফিক সমন্বিত কাঠামো এখনো গড়ে না ওঠার কারণ কী মনে করেন?

যে কোনো সিস্টেম তৈরি হতে সময় লাগে। আমি বিশ্বাস করি, ইতোমধ্যে আমরা একটি সিস্টেম ডেভেলপ করেছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও নিখুঁত হবে।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রূপালী বাংলাদেশকেও ধন্যবাদ।