ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ তিন দিনের রিমান্ডে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৬:০৬ এএম

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার জামালপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এবং বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রোববার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই মোহাম্মদ সোহেল সরকার। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সংগঠনের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ, সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ এবং সরকারবিরোধী কার্যক্রমে ভূমিকা পালন করেন।

গ্রেপ্তারের সময় আসামির কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ডসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। এসব আলামত যাচাই, তার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত, অর্থের উৎস এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়। এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তাদের মধ্যে কামরুল হোসেন, আব্দুর রহিমসহ অনেকে শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানি চলাকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পরÑ অর্থাৎ ৫ আগস্টের পর আমি বাসায় ছিলাম। আমি অপরাধী হলে বাসা থেকে পালিয়ে যেতাম। কিন্তু আমি যাই নাই। আমি কোনো অপরাধ করিনি। বাসায় ছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটা ব্যবসা আছে। প্রতিদিনই বাসা থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতাম। কেউ হয়তো শত্রুতা করে আমাকে এই মামলায় জড়িয়েছে।’

এর আগে গত ২৭ জুন রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কর্মী ও সাবেক এমপি মো. নূর মোহাম্মদ ৩০-৩৫ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ একটি অবৈধ মিছিল বের করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তারা লাঠিসোঁটা ও উসকানিমূলক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। একপর্যায়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। পরে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল, উসকানিমূলক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।