রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং পাটালি গ্রুপের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মো. শামীম পাটালিসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি ও একটি তরবারি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রুপটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিত। মোহাম্মদপুর এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে তারা জড়িত। গত ১৫ মে রায়ের বাজারে একই পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার আলোচিত ঘটনায়ও পাটালি গ্রুপের সদস্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
গতকাল রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। তিনি বলেন, ‘গত ২৭ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় পাটালি গ্রুপের সদস্যরা ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর অভিযান চালিয়ে শামীম পাটালির দুই সহযোগী খোকন মুন্সী ও সজীব ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রুপটির অন্যতম নেতা শামীম পাটালিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।’
র্যাব জানায়, শামীম পাটালিসহ পাটালি পরিবারের কয়েকজন সদস্য গত ১৫ মে একই পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত। এর আগে পাটালি পরিবারের আরও দুই সদস্য রানা পাটালি ও রাসেল পাটালি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
নয়মুল হাসান বলেন, ‘পাটালি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। একই রাতে পৃথক দুটি অভিযানে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে শাকিউল করিম ও আরিফকে একটি চাপাতিসহ এবং বাবর রোড এলাকা থেকে হৃদয় ও নয়নকে একটি চাপাতিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া গত ২৪ জুন রায়ের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাটালি গ্রুপের সদস্য জুয়েল ও তার সহযোগী শাকিলকে একটি তরবারিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’

