ঢাকার মিরপুরে বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে আলভীর কাছ থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে’ বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল মঙ্গলবার আলভীকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক। আবেদনে বলা হয়, ‘আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মামলার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তকাজে সহায়তা করবে। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, তাই মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।’
শুনানির সময় আলভীকে এজলাসে তোলা হয়। তবে তার পক্ষে জামিনের আবেদন ছিল না। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এ মামলায় আর কার কার সম্পৃক্ততা আসছে, তা লিখিত আকারে জানাতে আদালতের কাছে প্রার্থনা করেন। বিচারক তাকে বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে কল করা হবে।’ এরপর বিচারক আলভীর কিছু বলার আছে কি না জানতে চান। আলভী মাথা নেড়ে জানান, না। রিমান্ডে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আলভী বলেন, না। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ১৮ জুন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন যাহের আলভী। তবে আদালত সেদিন জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ২১ জুন আলভীর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানির জন্য রাখা হয় ২৪ জুন। ওই দিন আদালত তার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে গেল ৪ জুন আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। আলভী ও ইকরা বিয়ে করেন ২০১০ সালে। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর ডিওএইচএসের বাসায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এদিকে ইকরার আত্মহত্যার পর ওই রাতেই মামলা করেন বাবা কবির হায়াত খান। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।

