রাজধানীর পুরান ঢাকার চক মোগলটুলীর হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার বেলা দেড়টার দিকে মার্কেটের আটতলা একটি ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে হতাহতের কোনো ঘটনা না ঘটলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আগুনের খবর পাওয়ার পর লালবাগ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট সেখানে পৌঁছে দেখে প্রচ- ধোঁয়া। পরে আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আটতলা ভবনটিতে মাত্র একটা সিঁড়ি এবং সিঁড়িটি দুই ফুট চওড়া। এর মধ্য দিয়ে আমাদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করতে হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ৮ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় গুদাম ছিল। এগুলোর মধ্যে প্লাস্টিকের ছাতা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক মালামাল ছিল। আগুনের সময় গুদামগুলোর শাটার তালাবদ্ধ ছিল। এই তালাগুলো খুলে ফায়ার সার্ভিসকে কাজ করতে হয়। গুদামগুলোর মালামাল সরাতে অনেক সময় লাগে। তাই আগুন নির্বাপণ করতেও অনেক সময় লাগে।
কাজী নজমুজ্জামান আরও জানান, রাজধানীর চকবাজারের চক মোঘলটুলীর ১১৭ নম্বর রোডে হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটে আগুনের ঘটনা মূলত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত কোটি টাকার ওপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, বেলা দেড়টার দিকে আমি আমার ছাতার দোকানে কাজ করছিলাম। ঠিক তখনই আগুনটা লাগে। ছাতার দোকানে আগুন লাগার সময় সামনে কিছু কাঠ রাখা ছিল। ফলে সেই কাঠে লেগে পাশে থাকা বাল্বের (লাইট) গুদামে আগুনটা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন বাড়তে থাকে। আগুন দেখার পর আমি আর দেরি করি নাইÑ তিন থেকে চারবার কল করেছি। প্রায় আধা ঘণ্টা পর আগুন নেভানোর গাড়ি এসেছে। তারা এসে বাইরে থেকে পানি মারা শুরু করল। পরে তারা ভেতরে ঢুকে আগুন নিভিয়েছে।
আগুনের সূত্রপাত নিয়ে তিনি বলেন, মূলত ছাতার দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। আগুনটা শর্ট সার্কিট থেকে লাগছে। আর কোনো কারণ নেই। কারণ হঠাৎ করে দোকানের ভেতরে আগুন। আগুন দেখে আমি আমার গুদামের শাটার ফেলে দেওয়ায় মালামাল পোড়েনি। তার মতে, শর্ট সার্কিট ছাড়া আগুন লাগার মতো তেমন কিছু নেই। তা ছাড়া গুদামে লোকজনও ছিল না। ফলে কেউ লাগিয়ে দেবে তারও সম্ভাবনা নেই।
মার্কেটের দ্বিতীয় তলার বেল্ট ব্যবসায়ী রুবেল জানান, তিনিও ওই সময় দোকানে কাজ করছিলেন। হঠাৎ আগুন আগুন চিৎকার শুনতে পান। এরপর তিনি তড়িঘড়ি করে নেমে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এলে তিনি আর ভবনে ঢুকতে পারেননি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটটি আটতলার পুরোটাই মার্কেট। এই ভবনে আটটি গুদাম ও আটটি দোকান রয়েছে। আগুন নেভানোর পর থেকে মার্কেটের গেটে তালা দেওয়া হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা এই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিকেল সাড়ে ৫টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।

