নারায়ণগঞ্জে মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তিন পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে জখম করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুরুজ্জামান, কনস্টেবল শাহীন ও কনস্টেবল মাইনুল। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মাসুম মিয়া নামের পুলিশের এক সোর্সও।
গতকাল শনিবার দুপুরে জেলার সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সোর্স মাসুম মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্ত ও আসামি ধরতে দুপুরে সাতভাইয়াপাড়া এলাকায় অভিযানে যান এসআই সুরুজ্জামানসহ পুলিশের একটি দল। এ সময় পুলিশ দলটিকে লক্ষ্য করে মামলার অভিযুক্ত আসামি সাগর ও তার ভাই সজল ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এতে তিন পুলিশ সদস্য ও তাদের সঙ্গে থাকা সোর্স মাসুম মিয়া গুরুতর জখম হন। পরে খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন।
আহত এসআই সুরুজ্জামান জানান, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত সাগরকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তিনি দুই কনস্টেবল শাহীন ও মাইনুলকে সঙ্গে নিয়ে সাতভাইয়াপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সাগর ও তার ভাই সজল ধারালো দা দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পুলিশ সোর্স মাসুম মিয়াসহ তাদের কুপিয়ে জখম করেন। পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার জানান, ছিনতাই মামলার আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত দুই ভাই সাগর ও সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

