ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

কৃষকের পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে উৎপাদন, প্রণোদনা, ভর্তুকি ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হবে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বিশ্বাস করে এবং দেশের সাধারণ মানুষও বিশ্বাস করে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে জাতীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে উৎপাদন বৃদ্ধি, কার্যকর বিপণনব্যবস্থা এবং কৃষকের আয় নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকার ঘোষিত নীতি, কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের গতির সঙ্গে নিজেদের কাজের গতি ও সক্ষমতা সমন্বয় করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। সরকারপ্রধানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও কর্মদক্ষতার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া বিএনপির ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে খালের পানি ব্যবহারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেস গড়ে তুলতে কৃষি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র এবং অন্যান্য সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক শনাক্তকরণ, সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকি সরাসরি বিতরণ, উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উর্বর মাটি, অনুকূল জলবায়ু এবং সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করা হবে। কৃষকের সমৃদ্ধিই দেশের সমৃদ্ধির ভিত্তিÑ এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কৃষিবান্ধব নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।