সিলেটের পুণ্যভূমি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের ৮টি দানবাক্স ও ৩টি ঐতিহাসিক ডেগ খুলে এবার মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ঘটনা ঘটল। গতকাল শনিবার দিনভর গণনা শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাব নিশ্চিত করেন। বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
এদিন বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উপস্থিতিতে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে চার বস্তা টাকা গণনার কাজ শুরু হয়, যা শেষ হয় বিকেলের দিকে।
নগদ দেশীয় টাকার পাশাপাশি দানবাক্সগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ও মূল্যবান ধাতু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন ডলার, সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপি, ইউরো, ওমানি দিনার, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। এ ছাড়া ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ ধাতব বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা পাওয়া গেছে। টাকা ও মুদ্রার বাইরে বরাবরের মতোই ভক্তদের আবেগ ও বিশ্বাসের নানা নিদর্শন মিলেছে দানবাক্সে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এবং খোদ হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরবারে লেখা একাধিক চিঠি ও আরজি। পাশাপাশি কিছু তান্ত্রিক কবিরাজের তাবিজ-কবচও উদ্ধার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২২ জুনের পর থেকে এ পর্যন্ত মাজারে ১টি গরু ও ৬৫টি ছাগল দান হিসেবে এসেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২৫টি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা মাজারের তহবিলে যুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স প্রকাশ্যে খোলা হয়েছিল। তখন মাত্র ৪ দিনের সংগ্রহে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। প্রথমবার বড় নোটের আধিক্য থাকলেও এবার ১০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট নোটের সংখ্যা বেশি ছিল। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত বিশেষ কমিটির অধীনে এই সম্পূর্ণ অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

