প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে কোমলমতি শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই কাজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ এবং দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে সৈনিকদের প্রয়োজন, সেই সৈনিকরা আজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই রয়েছে। আর সেই সৈনিকদের গড়ে তোলার দায়িত্ব আপনাদেরÑ শিক্ষকদের।
আপনারাই তাদের মধ্যে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের বীজ বপন করবেন। তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিশুদের পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা শেখাতে হবে। একটি শক্তিশালী ও মানবিক জাতি গঠনে এসব মূল্যবোধ অপরিহার্য।
তারেক রহমান জানান, সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে আরও বিস্তৃত করতে কাজ করছে। একইসঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশ এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের বিকল্প নেই। এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলে শিশুদের মেধা, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা আরও বিকশিত হয়।
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বর্ষায় দেশজুড়ে প্রায় দুই লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তিনি প্রতিটি শিশুকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি বর্ষায় অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
এ সময় শিশুদের প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, স্কুলপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে পোষা প্রাণীর পরিচর্যায় উৎসাহিত করা গেলে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও মানবিকতা আরও বিকশিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। মেয়েদের উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপ চালুর সিদ্ধান্তও সরকারের রয়েছে।
অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪ জেলার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। একইসঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল দেশের বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

