× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৫:৪৬ এএম

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী

বিদ্যুৎ বিতরণকে বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৫:৪৬ এএম

বিদ্যুৎ বিতরণকে বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার

দেশের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার। আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও বিল আদায় নিশ্চিত করতে এই খাতকে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো পরিচালনার প্রস্তাব আহ্বান করেছেন বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে গতকাল বুধবার বণিক বার্তার আয়োজনে ‘এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীরও স্পষ্ট নির্দেশনা হলো, সরকারি অর্থে আর সবকিছু করার প্রয়োজন নেই। যেখানে সম্ভব বেসরকারি খাতকে দায়িত্ব দিন। আমার অধীন যেসব বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি রয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে আমি সেগুলোর বেসরকারীকরণ দেখতে চাই।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমি সব বিতরণ কোম্পানিকে বেসরকারীকরণ করতে চাই। সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে পাইকারি বিক্রি করতে পারে, কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণের কাজটি বেসরকারি খাতেরই করা উচিত।’ 

জ¦ালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকারের রেখে যাওয়া ৬৭ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল। এটি কীভাবে সমাধান করব, সেটি আমিও সহজে বলতে পারি না। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বর্তমান বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি এই ৬৭ হাজার কোটি টাকার বকেয়া কীভাবে পরিশোধ করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে। এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।’ জ¦ালানিমন্ত্রী বলেন, ‘তবে আমি এসব কথা বলছি বলে আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা হ্যান্ডেল করছি এবং খুব ডেডিকেটেডলি, অনেস্টলি হ্যান্ডেল করছি।’ 

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, কলকাতা, মুম্বাই ও দিল্লির মতো শহরগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি কোম্পানিগুলো পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা কেন তা পারবেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করবে। বিদ্যুৎ বিতরণে সম্পৃক্ত ছয়টি কোম্পানিকে বেসরকারি খাতে ছাড়তে চায় সরকার। 

মন্ত্রীর মতে, বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে বিল আদায়ের হার বাড়বে এবং সরকারের আর্থিক বোঝা কমবে। তিনি বলেন, ‘সরকার খুচরা ব্যবসা করতে পারে না। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এলে জবাবদিহি ও বিল আদায় নিশ্চিত হবে।’

পেট্রোলিয়াম আমদানিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির লক্ষ্যে এই খাতও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করার কথা ভাবছে সরকার। মন্ত্রী বলেন, ‘সব সময় কেন সরকারকেই পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করতে হবে? বেসরকারি খাতকে এটি করতে দেওয়া উচিত। এর একটি বড় বাজার রয়েছে এবং প্রতিযোগিতার ফলে সরকারের ওপর চাপ কমবে।’

বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ¦ালানির বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান মেয়াদের শেষে বাংলাদেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে ক্লাস্টার-ভিত্তিক (গুচ্ছভিত্তিক) রুফটপ সোলার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থার আওতায় বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই সোলার প্যানেল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন এবং ‘নেট-মিটরিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকে খরচ তুলে নেবেন।

মন্ত্রী জানান, যেসব ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকবে, তারা পৌর কর বা মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্সে ছাড় পাবেন। অন্যদিকে যারা এটি করতে আগ্রহী হবেন না, তাদের ওপর বাড়তি ট্যাক্স আরোপ করা হতে পারে। তিনি আরও জানান, বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য এরই মধ্যে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে এবং চীনা বিনিয়োগকারীরা এতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!