বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনজীবন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত দেশের জনজীবনকে সংকটাপন্ন করে তুলছে। এতে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনকে মানবজাতির অন্যতম বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বরফ গলার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে পারে প্রায় ১ মিটার। এমনটি ঘটলে সুন্দরবনসহ দেশের ১৩টি উপকূলীয় জেলার ৬৩টি উপজেলার প্রায় ১৫.৮ শতাংশ ভূমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিতে পড়বেন প্রায় ৩ কোটি মানুষ।
এর আগে ১৯৭০ ও ২০০৪ সালের দুর্যোগ এবং সিডর-আইলার ক্ষত বয়ে বেড়ানো বাংলাদেশে এই সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি, সুপেয় পানি, খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যে। মাটির লবণাক্ততা ও আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় কৃষক ও জেলেদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। প্যারিস চুক্তির আওতায় নিজস্ব অর্থায়নে ৫ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা পেলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জ্বালানি, পরিবহন ও শিল্প খাতকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়ন করা হবে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ‘ফ্রম রিস্ক টু রেজিলিয়েন্স : হেলপিং পিপল অ্যান্ড ফার্মস অ্যাডাপ্ট ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি, বেসরকারি ও কমিউনিটি পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক এবং অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ জলবায়ু সংকটের টেকসই সমাধান বের করতে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কেবল জরুরি ত্রাণ সরবরাহ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। উপকূলীয় অঞ্চলে শক্তিশালী বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র, আধুনিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে বন সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন