বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি শিল্প গত এক দশকে নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আয়ু বৃদ্ধির ফলে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়া, দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল রোগের হার বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ সব মিলিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা জানান, বাংলাদেশে এ খাতের বাজারের আকার প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা, যা প্রতিবছর গড়ে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। তবুও প্রায় ৯০ শতাংশই করতে হয় আমদানি। বিশ^জুড়ে ২০২৫ সালে এ খাতের বাজারমূল্য প্রায় ৫০১ থেকে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে।
তবে শিল্পটির অগ্রগতির পথে রয়েছে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ। নীতি সহায়তার অভাব, উৎপাদন উপযোগী কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে উচ্চ শুল্ক, গবেষণা ও উদ্ভাবনে সীমিত বিনিয়োগ, খণ্ডিত বাজার কাঠামো, সঠিক পরিসংখ্যান ও তথ্যের অভাব এবং শুল্ক জালিয়াতিসহ নানান জটিলতা রয়েছে।
গতকাল রোববার দুপুরে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর মেডিকেল ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স (বিএএমডিএসআইএমই) কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
এ সময় বিএএমডিএসআইএমইর সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধারা অনুসরণ করছে। বর্তমানে আমাদের বাজারের আকার প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা, যা প্রতিবছর গড়ে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। দেশের প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে এই শিল্প ২০৩০ সালের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এর অর্থ হলোÑ শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণই নয়, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিতে পারব।
তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসার জন্য এসব অপরিহার্য দেশে ব্যবহৃত ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি করতে হয়। আমরা চাইলে অনেক পণ্য দেশে উৎপাদন করতে পারি। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদনের হার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ, যা উন্নত প্রযুক্তি, নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।
এ সময় বিএএমডিএসআইএমই শিল্প বিকাশে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলোÑ চিকিৎসা সরঞ্জাম শিল্পে কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা প্রদান, রপ্তানি প্রণোদনা ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০ শতাংশ করা এবং ন্যূনতম ১০ বছর বহাল রাখা, তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের সফল অভিজ্ঞতা চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে প্রয়োগ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে বিশেষায়িত পাঠ্যক্রম চালু, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও শল্য চিকিৎসা যন্ত্র খাতকে পৃথক শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি ও নীতি সহায়তা প্রদান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অধীনে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, শুল্ক জালিয়াতি রোধে সঠিক এইচএস কোড প্রয়োগ, সরকারি ক্রয়ে দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং দেশে উৎপাদনযোগ্য পণ্যের আমদানি বন্ধ করা, চিকিৎসা সরঞ্জাম রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা চালু।
সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গেটওয়ের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (বিজনেস) সাঈদ হোসেন চৌধুরী, এএনসির ডা. মোহাম্মদ সেলিম, গেটওয়েলর আবু সুফিয়ানসহ আরও অনেকে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন